রাজনীতি

যুবদলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান

নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয়তাবাদী যুবদলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। 

তিনি বলেছেন, “বিএনপির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে যুবদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।”

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মোনায়েম মুন্না বলেন, “দেশের মানুষ আজ গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের রায় কোনো কাগুজে স্ক্রিপ্ট নয়, এটি মানুষের হৃদয়ে লেখা। সেই রায় স্পষ্টভাবে বিএনপির পক্ষেই রয়েছে। এই জনসমর্থনের ঢেউ থামাতে ব্যর্থ হয়েই একটি মহল কুৎসা, গুজব ও সাজানো নাটকের আশ্রয় নিয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যুবদলকে টার্গেট করে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যার লক্ষ্য ভোটের মাঠে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে বিষাক্ত করা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি একাধিক ঘটনার উল্লেখ করে অপপ্রচারের অসারতা তুলে ধরেন। পটুয়াখালীর বাউফলে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবদলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, রোগীর শরীরে এমন কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই, যা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। এমনকি রোগীর নিজ বক্তব্যেও যুবদলের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কুষ্টিয়ার একটি ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর ফেসবুক পোস্টে নারীদের ওপর হামলার অভিযোগকে ন্যক্কারজনক মিথ্যাচার হিসেবে উল্লেখ করে মোনায়েম মুন্না বলেন, “এটি শুধু রাজনৈতিক অপপ্রচার নয়, বরং নারীদের সম্মান, মাতৃত্বের মর্যাদা এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার অপচেষ্টা। স্থানীয় পর্যায়ে যাচাই করে এ অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।”

রাজবাড়ীর একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে যুবদল নেতা হিসেবে প্রচারের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন যুবদল সভাপতি। তিনি বলেন, “ওই ব্যক্তি প্রায় সাত বছর আগে যুবদল থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তবু, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।”

এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধকে রাজনৈতিক রং দিয়ে যুবদল ও বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। এসব ঘটনার সঙ্গে যুবদল বা দলের কোনো অঙ্গসংগঠনের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন মোনায়েম মুন্না।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তিনি বলেন, “মিথ্যা, ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী যুবদলকে দমিয়ে রাখা যাবে না। আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ও সহনশীলতায় বিশ্বাস করি। তবে, চরিত্রহনন ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রাজপথে, গণমাধ্যমে এবং আইনি লড়াইয়ে আমরা কঠোর অবস্থান নেব।”

তিনি অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সত্যতা যাচাই করে তথ্য গ্রহণ ও সংবাদ প্রকাশ করার জন্য গণমাধ্যমকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।