ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী মির্জা আব্বাসের মতো বাতিল ব্যালট গণ্য করা না হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী থাকবে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষনেতা ঢাকা-১৩ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক। এ বিষয়ে ইসি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে আজকালের মধ্যে চূড়ান্ত কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এক ভিডিও বার্তায় মামুনুল হক এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, ‘‘খেলাফত মজলিসের ২২ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেছে, জনগণ প্রত্যাশামত ভোট দিয়ে আমাদের গ্রহণ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম আসন ছিল ঢাকা-১৩। আসনটি নানা কারণে দেশ জাতির আগ্রহের আসনে পরিণত হয়েছিল। আপনারা সারাদিন উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় ছিলেন। জয় ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল জনগণ। কিন্তু ফল ঝুলিয়ে রাখা হয়। অনেক নাটকীয়তা শেষে গভীর রাতে আমাদের পরাজিত ঘোষণা করা হয়।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমরা নির্বাচনে একটা নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করেছি, সেটা হলো বর্তমান কালচার অনুযায়ী নির্বাচনে হারলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা। আমরা গতানুগতিক সেই পথে যেতে চাইনি। পরাজয়কে ইতিবাচকভাবে দেখি। কিন্তু রাতে ফল ঘোষণা না করে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছিল, অন্যদিকে সময় যত গড়াচ্ছে নির্বাচনের ভয়াবহ চিত্র আসছিল। কিন্তু গভীর রাতে আমাদের পরাজয় ঘোষণা করে ভোটারদের আবেগ নিয়ে খেলেছে নির্বাচন কমিশন।’’
ইসির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে মামুনুল হক বলেন, ‘‘আমার আসনে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে রাতে ইসিতে গিয়েছিলাম, ইসি থেকে বলা হয় এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবের সঙ্গে কথা বলতে। তার সঙ্গে দেখা করলে ‘তার এখতিয়ার নাই’ মর্মে জানান। রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে দেখা করলে তিনিও এর দায়দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। এভাবে একে অপরকে দেখিয়ে দেন। তারা কেউ দায়দায়িত্ব নিতে চায়নি। যে ভোটাধিকার নিয়ে এত লড়াই, এত যুদ্ধ সেই ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে ইসি দায়িত্ব নিতে চান না। তাহলে ভোটের অধিকার নিয়ে কী হবে? তারা এটাকে তামাশার পাত্রে পরিণত করেছে।’’
অবৈধ ফল ঘোষণার অভিযোগ তুলে মামুনুল হক বলেন, ‘‘একই শহরে দু’আইন চলতে পারে না। যে আইনে মির্জা আব্বাসের ব্যালট বৈধ হবে, সেই একই আইনে আমারটা তো অবৈধ হতে পারে না। ইসির কেউ দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেন না। রিটার্নিং অফিসার তার মধ্যেই আরেক জনকে জয়ী ঘোষণা করেছেন।’’
‘‘আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতেত চাই, আমরা এ বিষয়টিকে কোনোভাবে বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দিতে পারি না। দেশ, জাতি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সেটাকে অব্যাহত রাখার স্বার্থে এ বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না। কাজেই সর্বোচ্চ পদক্ষেপ আমাদের নিতে হবে। এ বিষয়ে ইসি সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তারা দায়ী থাকবে,’’ ভিডিও বার্তায় বলেন ঢাকা-১৩ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী।
যে কোনো কর্মসূচির জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘‘আপনারা নিজেদের প্রস্তুত রাখুন, যে কোনো পরিস্থিতি আসবে, প্রয়োজনের যদি আমাদের কঠোর কোনো পদক্ষেপে যেতে হয়, ইনশআল্লাহ, আমরা সেই কঠোর পদেক্ষপ নিতে কুণ্ঠিত হবো না। এটাই আমাদের প্রত্যয়, এটাই আমাদের মনোভাব।’’
এ সময় তিনি ‘‘নিজেদের কয়েকটি ফোরামে আলোচনা করেছি। কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অবশিষ্ট ফোরামে আলোচনা করে সকলের মতামত নিয়ে আজকালের মধ্যে চূড়ান্ত কর্মসূচি নিয়ে আমরা অগ্রসর হবো’’ বলেও জানান।
‘‘আপনারা নিজেরা আলোচনায় রাখুন, যেসব বিষয় ইসিতে গিয়ে মিডিয়ার সামনে বলেছি, একই ধরণের ব্যালট যা আমাদের ক্ষেত্রে বাতিল বলে গণ্য হয়েছে, একই ব্যালট মির্জা আব্বাসের ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হয়েছে। ইসির এই ধরনের দ্বৈত নীতি আমরা মানতে পারি না। যে কারণে বাতিল ভোট মির্জা আব্বাসের জন্য গণ্য হবে একই কারণে মামুনুল হকের ক্ষেত্রেও গণ্য কেন হবে না এর জবাব নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারকে জবাবদিহি করতে হবে।’’
‘‘জবাবদিহি আমরা নিয়েই ছাড়বো। এজন্য আমরা যা যা করা দরকার আমরা করবো। যদি কঠোর হতে বাধ্য করেন তাহলে কঠোর হওয়া ছাড়া কোনো পথ নাই।’’ হুঁশিয়ারি দেন মামুনুল হক।
তিনি বলেন, ‘‘আমরা চাই না এই মুহূর্তে দেশে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা, কোনো ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হোক। এজন্য আমরা গতকালও বলেছি, এখনও বলছি। প্রমাণাদিসহ লিখিতভাবে সাবমিট করবো, এরপরও যদি তারা কার্যকরি পদক্ষেপ নিতে গড়িমসি করে তখন আমাদের যা করার করবো।’’
ভিডিও বার্তায় তিনি কর্মী সমর্থক, ইসলামী ভাই, দেশজনতাকে এ জন্য পরিপূর্ণ প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।