নিজে নির্বাচনে জিতলেও দল ও জোটগতভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে না পারার ব্যাখ্যা দিতে সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বললেন, “নির্বাচনে সুস্পষ্টভাবে কারচুপি করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের শেষ মুহূর্তে ১০ শতাংশ ভোটে কারচুপি করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “মামুনুল হক সাহেব (ঢাকা-১৩), নাসীরুদ্দীন (ঢাকা-৮) এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের আসন টার্গেট করে সুনির্দিষ্টভাবে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়েছে। কিছু কেন্দ্রে দখল, প্রশাসনের প্রভাব এবং জোরপূর্বক পরিস্থিতি তৈরি করে ফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে।”
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচনপরবর্তী ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলোর নেতাদের জরুরি বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন নাহিদ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে ৭৭ আসনে জয়ী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান দল জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শরিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি ব্রিফি করছিলেন, যার এক পর্যায়ে নাহিদকে ডেকে তার বক্তব্য শোনাতে বলেন।
ব্রিফিংয়ে দাঁড়িয়ে নাহিদ বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। প্রয়োজন হলে আমাদের রাজপথে নামার প্রস্তুতি রয়েছে। ১১ দলের পক্ষে যারা কাজ করেছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাজনৈতিক দায়িত্ব।”
এই নির্বাচনে দুটি পক্ষ ছিল বলে মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, “একটি পক্ষ সংস্কার ও বিচারের পক্ষে ছিল। আরেকটি পক্ষ ছিল, যারা পুরোনো বন্দোবস্ত টিকিয়ে রাখতে চায়। আমরা দেখেছি, গণভোটে ‘হ্যা’ বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে। যারা ‘হ্যা’ ভোট দিয়েছেন, তারা ১১ দলকেও ভোট দিয়েছেন। সে হিসেবে ১১ দলের বিজয়ী হওয়ার কথা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ১০ শতাংশ ভোট কারচুপি করা হয়েছে।”
তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভিশন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’-এর দিকে সমালোচনার তীর ছুড়ে নাহিদ বলেন, “যে প্ল্যানের কথা আমরা শুনেছি, সে প্ল্যানের একটা বাস্তবায়ন কিন্তু আমরা এ নির্বাচনে দেখতে পাচ্ছি। এভাবে ফলাফল কারচুপি করে পুরোনো আমলে আওয়ামী লীগ যেভাবে নির্বাচন করেছে; এ ধরনের প্রচেষ্টা আমরা যাদের ভেতর দেখতে পাচ্ছি, তারা কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, সেটা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন এসেছে।”
নাহিদের পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে ব্রিফিংয়ে অংশ নিতে সুযোগ করে দেন জামায়াত আমির। মামুনুল হক ঢাকা-১৩ আসনে লড়াই করে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। অবশ্য তার আসনে ফলাফল গণনার ক্ষেত্রে কারচুপির অভিযোগ তুললেও এদিন বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের আশা করেন, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশকে এগিয়ে নেবেন তারা। না হলে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে ১১ দলের শরিকরা।