ফজরের নামাজ শেষ করে নেতাকর্মী নিয়ে ঝাড়ু হাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় নেমে পড়েন জাতীয় সংসদসে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মূল বালিকা শাখা সংলগ্ন বাইতুন নূর মসজিদের সামনে থেকে ঝাড়ু দিয়ে ময়লা পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে জামায়াতের ‘ক্লিন ঢাকা গ্রীণ ঢাকা’ কর্মসূচি শুরু করেন তিনি।
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পরদিনই এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই কর্মসূচি শুরু করায় অনেকেই প্রশংসাও করছেন জামায়াত আমিরের।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা জানেন, আমরা সংসদ সদস্য ও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিয়েছি। আমরা সংসদে গিয়ে দেশের জন্য ভাল কিছু করতে চাই। সংস্কারের মাধ্যমে আবর্জনা দূর করতে চাই। ড্রেনের ময়লা, রাস্তার ময়লা থেকে শুরু করে মানুষের মনের আবর্জনা আমরা দূর করতে চাই। মানসিক সংশোধনের জন্যই আমাদের অভিযান।”
তিনি বলেন, “আজকে এই পরিছন্নতা অভিযানে আমার অংশ গ্রহণ মানে হচ্ছে প্রিয় এলাকাবাসী ও দেশবাসীকে বার্তা দিতে চাই, আমরা একটা পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়ব। যে সমাজে আমাদের পরিবেশ সুন্দর থাকবে, আমাদের মনও সুন্দর থাকবে। পরিবেশ যখন সুন্দর থাকে, তখন ইতিবাচক প্রভাব মনোজগতের ওপর পড়ে। ভাল হয়, সমাজের জন্য দরদি ও দায়িত্ববান হয়। মূলত আমরা সেই বার্তাটি দিতে চাই। আমাদের ছোট দেশে নিজেরা আন্তরিক হলে, নিজ নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখলে দেশ পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, “আমি এলাকাবাসীকে বলব, এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান লোক দেখানো নয়। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর আমাদের প্রত্যেকটি ইউনিট কমপক্ষে আধঘণ্টা এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাবে। একঘণ্টা পারলে আরো ভালো। পরে নিজ নিজ পেশাগত কাজে ও সেবায় ছড়িয়ে পড়বেন তারা।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা চাই, এই এলাকাটাকে মডেল এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে। সরকারের ফান্ড পাই, না পাই আমরা কাজ চালিয়ে যাব। আমরা দাবি করব, সরকার যেন ন্যায্য পাওনা থেকে এই এলাকাকে বঞ্চিত না করে।”
মডেল এলাকা গড়তে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আমার সাথে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন- আমরা সবাই ওয়াদা করেছিলাম একটি বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ মডেল এলাকা করার। আমি সবার সহযোগিতা চাই। প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু মিলেমিশে আমরা মডেল এলাকা গড়ে তুলতে চাই। এবার আমি হয়েছি, আগামীতে তারা হবেন, একসঙ্গে আমরা পথ চলতে চাই। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কাজের মাধ্যম জনগণের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা, মনে প্রশান্তি দেওয়ায় আমাদের কাজ।”
পরে ডা. শফিকুর রহমান এলাকাবাসীর সঙ্গে কুশলা বিনিময় করেন। সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এসময় জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।