দেশে আর কোনো দিন মব হবে না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এমন ঘোষণা দেওয়ার পরেও একটির পর একটি মবের ঘটনা ঘটে চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত আছেন। উনি একবার না, দুইবার না, কয়েক দফা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, বাংলাদেশে আর মবের সংস্কৃতি হবে না। উনি আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি হবে না। উনি আশ্বস্ত করেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ ন্যায় বিচার পাবে। কিন্তু আমরা দেখলাম একটির পর একটি জায়গায় মবের ঘটনা ঘটেই চলেছে।”
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে ৭১-বিধির নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা।
রুমিন ফারহানা বলেন, “বিভিন্ন দেশে নানান রকম সংস্কৃতি থাকে—নাচের সংস্কৃতি, গানের সংস্কৃতি, অভিনয়ের সংস্কৃতি, কবিতার সংস্কৃতি। আমাদের দেশে গত দেড় বছর এবং এরপরের গত দুই মাস ধরে মবের সংস্কৃতি দেখলাম। আমরা দেখলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে মব করে সরানো হয়েছে। আমরা দেখলাম, বাসসের প্রধানকে মব করা হয়েছে। বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে মব হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ল-ইয়ার রুমে মব হয়েছে। ডেইলি স্টার, প্রথম আলো ভাঙা হয়েছে। চট্টগ্রামে দেড় বছর আগে নেচে-গেয়ে, নাচ ও গানের মাধ্যমে ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটিয়ে মারা হয়েছে। কুষ্টিয়ায় একজন কথিত পীরকে পিটিয়ে মারা হয়েছে কিছুদিন আগে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে রুমিন ফারহানা বলেন, “আজকে প্রধানমন্ত্রীও একই ধরনের কথা বলেছেন। মানুষ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখনই এ রকম সংস্কৃতি বাড়ে এবং মানুষ এ ধরনের সংস্কৃতিতে জড়িয়ে যায়। মানুষের মধ্যে হতাশা আছে, ক্ষোভ আছে, তীব্র বৈষম্য আছে এবং সর্বোপরি আছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব। দেড় বছর আগে চট্টগ্রামে মব করে যে লোকটিকে পিটিয়ে মারা হয়েছিল, তার বিচার এখন পর্যন্ত হয়নি।”