রাজনীতি

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে: ইসলামী আন্দোলন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ব‌লে‌ছেন, “জ্বালানি আমদানি-নির্ভরতা কমাতে এবং জ্বালানি সার্বভৌমত্ব গড়ে তুলতে দেশের অভ্যন্তরে অনুসন্ধান খুবই জরুরি বিষয়। সরকার এই বিষয়ে মনোযোগী হয়েছে বলে সাধুবাদ জানাই। তবে সরকারকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, জ্বালানি অনুসন্ধান ও জ্বালানি ব্যবসা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়।”

শনিবার (২ মে) এক বিবৃতিতে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ব‌লেন, “জ্বালানি অনুসন্ধানের ইতিহাস লুটপাট ও অবিচারের ইতিহাস। অন্যায্য শর্তারোপ করে, জ্বালানির দাম নিয়ে নয়-ছয় করে এমনভাবে চুক্তি করা হয় যে, দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি প্রাপ্তি দেশের জন্য আরো সমস্যাজনক হয়ে যায়। তাই সরকারকে আমরা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছি। দেশীয় বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে, চুক্তির শর্ত নিয়ে বহুরৈখিক পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই ক্ষেত্রে গতিশীলতা জরুরি কিন্তু তাড়াহুড়ো করা উচিৎ হবে না।”

গাজী আতাউর বলেন, “জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যাচ্ছে যে, বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের আপত্তির জায়গাগুলো-যেমন গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, পাইপলাইন ব্যয় পুনরুদ্ধার এবং কাজের বাধ্যবাধকতার শর্ত পুনর্বিবেচনা করে নতুন মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) সংশোধন করা হয়েছে। এবং আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির সুপারিশে নানা পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের প্রধান লক্ষ মুনাফা। তারা ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা করে না। তারা আমাদের স্বার্থ দেখার কথা না। আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো কাদের স্বার্থ দেখে তা সবার জানা। এই জায়গায় আমাদের শংকিত হওয়ার মতো কারণ আছে। তাই বলব, দেশীয় বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করুন। প্রয়োজনে আন্তঃদলীয় আলোচনা করুন। আমরা আমাদের মাটি ও সমুদ্রের নিচে থাকা সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই কিন্তু কোন বিদেশি স্বার্থান্বেষি কেউ এসে আমাদের সম্পদ লুটেপুটে নেবে তা হতে দেওয়া যায় না। তাই বিনিয়োগকারীদের আকর্ষিত যেমন করতে হবে তেমনি সম্পদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।”