জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘‘আমি লাস্ট কিছুদিন জ্বালানি বিষয়ক একটা কমিটিতে আছি, জাতীয় জ্বালানি বিষয়ক কমিটি। সেই জায়গায় দেখলাম, বিশেষ করে আমলাদের মধ্যে অনেকেই, সব আমলা না, এলএনজির সঙ্গে রিলেটেড; তিনি গভর্নমেন্টকে পুশ করার চেষ্টা করেন।’’
রবিবার (৩ মে) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির জাতীয় কনভেনশনে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘‘আমাদের একটার পর একটা পাওয়ার প্ল্যান্ট দিয়ে গেছে। কিন্তু এগুলো থেকে আমরা সোর্স করতে পারিনি। আমাদের পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল। দিন শেষে আমাদের ইম্পোর্ট বেস এনার্জি সোর্সিং করার যে পদ্ধতি বা আমাদের যে প্রক্রিয়া ডিপেন্ডেন্সি, সেটা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। দিন শেষে রিনিউঅ্যাবলে আমাদের যেতে হবে।’’
আমরা নিজেরা সোর্স করতে পারবো না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘‘আমরা যদি প্রত্যেক বছর এ ধরনের এই যে ক্রাইসিস এখন তৈরি হয়েছে, এই ক্রাইসিস ইমিডিয়েট সলিউশন হবে না, এটার একটা লং টার্ম ইমপ্যাক্ট ইকোনমির মধ্যে পড়বে এবং এনার্জির মধ্যে পড়বে। দিন শেষে যদি এনার্জির এই পুরো সিস্টেম কলাপস করে পুরো বিজনেস কলাপস করবে। সবকিছুর প্রাইস ইনক্রিস হবে এবং দেখা যাবে স্থানীয়ভাবে আমাদের যে এসএমই সেক্টর, যেটা নিয়ে আমরা আশাবাদী হচ্ছি ওই জায়গায়ও কিন্তু বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে। সেজন্য আমাদের ডাইভার্সিফিকেশন অব এনার্জি সোর্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’’
এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘‘আমাদের ল্যান্ড বেসড এফএসআরইউ করা যায় কি না সেই জায়গায় দৃষ্টি দেওয়া উচিত। তবে আমি লাস্ট কিছুদিন জ্বালানি বিষয়ক একটা কমিটিতে আছি; সেই জায়গায় দেখলাম, বিশেষ করে আমলাদের মধ্যে অনেকেই, সব আমলা না, এলএনজির সঙ্গে রিলেটেড, তিনি গভর্নমেন্টকে পুশ করার চেষ্টা করেন। কারণ এলএনজি কোম্পানিগুলো তারা ইম্পোর্ট করে, মানে হচ্ছে ইনভেস্ট করে এবং দেখা যায় রিটায়ারমেন্টের পরে ওই আমলা ওই এলএনজি কোম্পানির কোনো একটা অ্যাডভাইজরি হচ্ছেন, চাকরি-বাকরি করছেন বা কোনো একটা পোস্টে যান।’’
‘‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ইমপ্যাক্ট কিন্তু পাকিস্তানে পড়েনি। উরুগুয়েতে পড়েনি, কেনিয়াতে পড়েনি। কারণ তারা এখন রিনিউঅ্যাবল ডিপেন্ডেন্ট। লাস্ট ১০-১৫ বছরে যদি দেখেন, আমরা নতুন কোনো ধরনের ডোমেস্টিক সোর্সিংই করিনি রিনিউঅ্যাবলের জন্য।’’
জন-আকাঙ্ক্ষা থেকে সরকার অনেক দূরে সরিয়ে গিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের যে জন-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, রাষ্ট্রের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, সেই জায়গা থেকে গভর্নমেন্টকে অনেক দূরে সরিয়ে নিচ্ছে এবং এখানে আমাদের সংস্কার ইনস্টিটিউশনালি ইন্ডিপেন্ডেন্ট হওয়ার কথা ছিল; আমাদের জুডিশিয়ারি ইন্ডিপেন্ডেন্ট হওয়ার কথা ছিল; আমাদের আমলাতন্ত্রের জায়গায় একটা ম্যাসিভ রিস্ট্রাকচার (বড় ধরনের পুনর্গঠন) হওয়ার দরকার ছিল; আমাদের পুলিশ সংসার কমিশন হওয়ার দরকার ছিল’’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।