ভারতে মুসলমানদের ওপর নীপিড়ন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং চট্টগ্রামে ২১ জন সেনাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘মিথ্যা মামলা' প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা ও ছাত্রসেনা।
মঙ্গলবার (১২ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা ও যুবসেনা শাহবাগ থানা ও ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা ভারতের চলমান পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বর্তমানে ভারতে মুসলমানদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ-মাদ্রাসা এমনকি কবরস্থানেও অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। এই মানবিক বিপর্যয় রোধে আন্তর্জাতিক মহলকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের দপ্তর সচিব মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম চট্টগ্রামে ২১ জন সেনাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার সভাপতি অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরওয়ার বলেন, “এটা কোন ধরনের ধর্ম যে ধর্ম অন্য ধর্মের ওপর আঘাত করে, হামলা করে, হত্যাকাণ্ড, মসজিদ, মাদ্রাসায় অগ্নিসংযোগ করে। এটা কোন ধর্ম হতে পারে না। এরা উগ্রবাদী, এরা সন্ত্রাসী। প্রকৃত ধর্মের অনুসারীরা কখনো এহেন কাজ করতে পারে না।”
বিশেষ বক্তা ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সভাপতি ছাত্রনেতা মুহাম্মদ আজাদ হোসাইন বলেন, “বিশ্বজুড়ে অশান্তি ও হানাহানিতে লিপ্ত সন্ত্রাসীদের পরিচয় এক—তারা উগ্রবাদী। ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী শক্তি, ভারতে বিজেপি এবং বাংলাদেশে তওহিদী জনতার নামে যারা অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তারা মূলত একই মুদ্রার এপিট-ওপিট। তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা এনাম রেজা, মোশাররফ হোসেন শহীদুল, আবুল কালাম আজাদ, শাফায়েত উল্লাহ, ইঞ্জিনিয়ার বিএম এরশাদ, কবি ইসমাইল হোসেন জনি।
সমাবেশ শেষে একটি প্রতিবাদ মিছিল গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।