রাজধানীর মিরপুরে হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজারে তৌহিদী জনতার নামে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণজেয়ারত কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।
হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে সোমবার (১৮ মে) মিরপুরের হযরত শাহ আলী মাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে দলটির নেতারা বলেন, “কারা হামলা করেছে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে তাদের চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। তারা চিহ্নিত জামায়াতের নেতাকর্মী। অস্ত্র দিয়ে নিরীহ নারী-পুরুষকে হামলা করে, সম্পদ লুটপাট করে নিয়ে যায় তারা। ৭১ এ যারা দেশকে ধ্বংস করেছে; তাদের পক্ষেই কেবল মাজারে হামলা করা সম্ভব।”
তারা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে চলে আসা মব সন্ত্রাসের রাজত্ব নির্বাচিত সরকারের আমলেও হবে তা আশ্চর্যজনক। ইউনূস সরকারের ওপর তৌহিদী জনতা নামে যে ভূত চেপে বিভিন্ন মাজারে হামলা করেছে তারাই হযরত শাহ আলী বাগদাদী (রহ.) এর মাজার প্রাঙ্গণে হামলা করেছে। তৌহিদী জনতা নাম দিয়ে কখনও হেফাজতিরা, কখনও জামাতিরা এসব হামলার সাথে সরাসরি জড়িত।”
শাহ আলী (রাহ.) এর মাজারে হামলায় স্থানীয় এমপির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে অভিযোগ করে বক্তারা বলেন, “তাকে গ্রেপ্তার করা হলে এ ঘটনার সকল রহস্য উন্মোচিত হবে। এই হামলার পিছনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে।”
“পুলিশ প্রশাসন বলছে তারা কোন অভিযান পরিচালনা করেননি আর স্থানীয় সংসদ সদস্য বলছেন প্রশাসন অভিযান চালিয়েছে। প্রশাসন এবং সংসদ সদস্যের দ্বিমুখি বক্তব্য প্রমাণ করে এটা জামায়াতের পরিকল্পিত হামলা।”
নেতারা অবিলম্বে দেশব্যাপী যেসব মাজারে হামলা হয়েছে তার বিচারের দাবিতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করারও আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে দলটির নেতারা মাজার জেয়ারত করে দেশ ও জাতির সুখ সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করেন।
ঢাকা মহানগর ইসলামী ফ্রন্টের আয়োজনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন নূরীর সভাপতিত্বে মুহিব্বুল্লাহ সিদ্দিকি আল ইয়ামেনীর সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের দপ্তর সচিব আব্দুল হাকিম। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আজাদ হোসাইন।
বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার আলম জালালী, মুফতি ইদ্রিস হোসাইন কাদেরী, কাজী মোহাম্মদ তৈয়ব আলী, আলহাজ্ব শাফায়াত উল্লাহ, অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান, আমান উল্লাহ আমান প্রমুখ।