রাজনীতি

শাপলায় হত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি জুনায়েদ বাবুনগরীর সহকারীর

আন্তর্জাতিক বিচার ট্রাইব্যুনালে শাপলা ‘গণহত্যা’য় জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি জানিয়েছেন হেফাজতের সাবেক মহাসচিব ও আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকী।

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘ ৯ বছর হেফাজতের সাবেক মজলুম মহাসচিব ও পরবর্তী আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী ছিলাম। আমি এমন এক কঠিন সময়ে ব্যক্তিপত সহকারীর দায়িত্ব পালন করেছি, যখন তিনি বাংলাদেশ এর তৎকালীন স্বৈরাচার সরকারের সর্বোচ্চ নিপীড়নের মধ্যে ছিলেন। সে অবস্থায় তার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেও বহু জুলুম অন্যায় অবিচারের শিকার হয়েছি। এবং শুধুমাত্র এজন্যই ২০২১ সালে গ্রেপ্তারের হয়ে দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেছি। আমার দীর্ঘ কারাজীবনে সীমাহীন এই অন্ধকার প্রকোষ্ঠের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আমার বাবা হযরত মাওলানা ওমর ফারুক স্ট্রক করেছেন, রাস্তার ওপর পড়ে গিয়ে পরবর্তী সময় দীর্ঘ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।”

মাওলানা রাকিবুল ইসলাম ফারুকী বলেন, “শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ্ আহমাদ শফীর আহ্বানে হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশে এর ঘোষিত ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার ছয়টি স্পটে অবরোধের ডাক দেয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দেশের লাখো তৌহিদী জনতার অংশগ্রহণের ঈমানী এই আন্দোলনে গুলি চালিয়ে গণহত্যা পরিচালনা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।”

তিনি আরো বলেন, “হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর নেতৃবৃন্দ ও আগত মুসল্লিরা ছিলেন সম্পূর্ণ নিরস্ত্র। নিরস্ত্র লাখো তৌহিদী জনতার উপরে এই ন্যাক্কারজনক হামলা আওয়ামী লীগের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় রচিত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সেই হামলায় ৯৩ জন শহীদ হয়েছে দাবি করে হেফাজাত ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এবং এর বিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে। আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে দ্রুত এই মামলার বিচার বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”