পজিটিভ বাংলাদেশ

নার্সারিকে ঘিরে আইউব আলির খামারের প্যাকেজ

বিল্লাল হোসেন রাজু, কুমিল্লা  : নার্সারি গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কুমিল্লা লালমাই উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়ন বাবকপাড়া ব্লকের কৃষক আইউব আলী। তার সাফল্যই তাকে সকলের দৃষ্টির সীমায় পৌঁছে দিয়েছে। তিনি কেবল নার্সারিই নয়, নার্সারিকে ঘিরে পশুপাখি ও মাছের খামারও গড়ে তুলেছেন।স্থানীয় মানুষেরা বলেন, নার্সারিকে ঘিরে আইউব আলি খামারের প্যাকেজ সাজিয়েছেন। আইউব আলীর বয়স এখন সত্তর বছর ছুঁই ছুঁই। কৃষি কাজের মধ্যদিয়েই কর্মজীবনের শুরু। তিনি এখন একজন সফল কৃষক।  কৃষি কাজ করে তিনি ইতিমধ্যেই আর্থিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছেন। বেশ সমৃদ্ধ আইউব আলীর নার্সারি।উন্নত জাতের আম, লিচু, পেয়ারা, কমলা, মালটা, জামরুল, লেবু, লটকন, সফেদা, জাম্বুরা, কমলা, নাসপাতি, কলা, কাঁঠাল ছাড়াও আরো কয়েকটি জাতের ফলজ ও ঔষধি গাছ রয়েছে তা নার্সারিতে।  নার্সারির পাশেই রয়েছে শাক-সবজি উৎপাদনের জমি। নার্সারির আরেক পাশেই গরুর খামার। আরো রয়েছে আশি জোড়া কবুতর। আইউব আলী জানান, শ্রমিকের মজুরি ও সব ধরণের খরচের পরেও তিনি প্রতি মাসে ফল ও  বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ বিক্রি করে অন্তত ৪০ হাজার টাকার মত আয় থাকে তার। কৃষক আইউব আলী গর্ব করে বলেন, ‘আমি আমার গাছের বিষমুক্ত ফল, শাকসবজি, পুকুরে চাষ করা মাছ, নিজের খামারে উৎপাদিত গরুর দুধ এবং নিজের জমির ধানের ভাত খাই। আমি সুস্থ এবং খুব সুখি।’ আইউব আলীর নার্সারির ভিতরেই রয়েছে বড় আকারের একটি পুকুর। এ পুকুরের পানি দিয়েই নার্সারির সেচ কাজ চলে এবং মাছের চাষ করেন। এখান থেকেও প্রতি বছর অন্তত ২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে আর্থিক সচ্ছলতা থাকার পরেও এত পরিশ্রম কেন করেন? জানতে চাইলে আইউব আলী হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলেন, ‘আমি আমার দেশ মাটি ও মানুষকে অনেক ভালোবাসি। আসলে নিজেকে সুস্থ রাখতেই নিজে এ কাজ করি।’ আইউব আলী বলেন, ‘আমি অনেক আগে থেকেই কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে কৃষি কাজ শুরু করি। কৃষি অফিস আমার কাজে উৎসাহ দেয় ও  আমাকে নিয়মিত পরামর্শও দেয়।’ রাইজিংবিডি/কুমিল্লা /৩০ মে ২০১৭/বিল্লাল হোসেন রাজু/টিপু