সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে কচি শসা। পুকুরপাড়ে মাচা বেয়ে উঠছে লাউয়ের ডগা। জমিতে নেই কোনো রাসায়নিক সারের গন্ধ। সবজি চাষে ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব সার। ফলে প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ হওয়া লাউ, বেগুন ও টমেটো ক্ষেতেই হচ্ছে বিক্রি। সম্প্রতি খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বড়াদম পাড়া, বানছড়া পাড়া, হেডম্যান পাড়া ও শন খোলা পাড়া ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
কৃষকরা জানান, নিজেদের উৎপাদিত ভার্মি ওয়াশ (এক ধরনের জৈব সার), জৈব সার, কেঁচো সার দিয়ে সবজি চাষ করছেন। তাদের উৎপাদিত সবজি সম্পর্কে যারা জানেন, তারা ক্ষেতে এসে কিনে নিয়ে যান।
বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন পদ্ধতি নিয়ে প্রতি মাসে কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কৃষকদের হেলভেটাস বাংলাদেশ-এর ইসিমুড প্রকল্পের অর্থায়নে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘তৃণমীল’ সার্বিক সহযোগিতা করছে।
শন খোলা পাড়ার চাষি তুহিনা চাকমা জানান, তিনি ২০ শতক জমিতে ক্ষীরা চাষ করেছেন। সর্ম্পূন জৈব সার, কেঁচো সার, ভার্মি ওয়াশ, পানি ও নিজেদের তৈরি উদ্ভিদ কিটনাশক দিয়ে তিনি জমি চাষ করেছেন। ভালো ফলন পাওয়ায় দুইবার ক্ষীরা বিক্রি করেছেন। ভালো দামে ক্ষীরা বিক্রি করতে পেরে খুশি। বাজারের বিক্রি হয় এমন কোনো কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করেননি বলে জানান এই কৃষক।
বড়াদম পাড়ার কৃষক রেমসি চাকমা জানান, ভার্মি ওয়াশ, কেঁচো সার ও জৈব সার তৈরি করেন তিন। এই সার তিনি বিভিন্ন সবজি উদপাদনে ব্যবহার করেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি সারের কারণে পোকামাকড় সবজিতে আক্রমন করে না। বর্তমানে তার জমিতে বেগুন ও টমেটোর পাশাপাশি নানা ধরনের সবজি চাষ হচ্ছে এই সার ব্যবহার করে।
বড়াদম পাড়ার কৃষক রেমসি চাকমা রাসায়নিক সার ছাড়াই চাষ করেছে বেগুন
বানছড়া পাড়া কৃষক শৈলেন্দ্র প্রভাত চাকমা জানান, তিনি প্রায় ২০ শতক পুকুরের ওপর মাচাং দিয়ে লাউ চাষ করেছেন সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ভাবে।
এই কৃষক জানান, তার জমিতে হওয়া লাউ খেতে খুব সুস্বাদু এবং বাজারেও চাহিদা প্রচুর। প্রথমবার তিনি ৩ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। পুকুরে মাছ চাষ আর শুকনো মৌসুমে ধান চাষ করেন বিষমুক্ত ভাবে।
তৃণমূলের প্রকল্প কর্মকর্তা সুইচিং অং মারমা বলেন, “এই প্রকল্পের মানুষ প্রথম ন্যাচার কেইস সলিউশনে কাজ করছেন। এর মাধ্যমে কোনো রকম কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে কীভাবে কৃষক বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করবেন সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পদ্ধতি শিখিয়ে দেওয়া হয়। যাতে মানুষ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত সবজি খেতে পারেন।”
‘প্রকৃতিভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীটনাশকমুক্ত ফসল উৎপাদনই কৃষির ভবিষ্যৎ।
দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, “কীটনাশকমুক্ত ফসল উৎপাদনই কৃষির ভবিষ্যৎ। কীটনাশকমুক্তি শাক-সবজির চাহিদা বাজারে সবচেয়ে বেশি।”