দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রথমবারের মতো জিরা চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন হামিদুর রহমান নামে এক কৃষক। কম খরচে লাভজনক এই মসলা জাতীয় ফসল এক শতক জমিতে চাষ করে তিনি প্রায় তিন কেজি ফলন পেয়েছেন। তার দেখাদেখি জিরা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন অন্য কৃষকরাও।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর বলছে, উন্নতমানের বীজ ও সঠিক পরিচর্যায় জিরা চাষে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
হিলির খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নের সাতকুড়ী গ্রামের বাসিন্দা হামিদুর রহমান। তিনি অনলাইনের মাধ্যমে বীজ সংগ্রহ করে প্রথমবারের মতো চাষ শুরু করেন জিরা।
কৃষক হামিদুর রহমান বলেন, “আমাদের এলাকায় আগে কখনো জিরা চাষ হয়নি। অনলাইনে বীজ সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করি। প্রথমবারেই ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারে যে জিরা পাওয়া যায় তার তুলনায় আমার উৎপাদিত জিরার সুগন্ধ ও স্বাদ অনেক ভালো। এখন এলাকার অনেকেই আমার কাছে পরামর্শ নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে জিরা চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি জানান, জিরা রোপন থেকে কাটামাড়াই পর্যন্ত সময় লেগেছে ৮৫ দিন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৯০০ টাকা। এক শতক জমিতে ফলন হয়েছে প্রায় ৩ কেজি, যার বাজার মূল্য প্রতিকেজি ৯০০ টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “এই প্রথম আমাদের এলাকায় জিরা চাষ দেখলাম। ছোট ছোট গাছে প্রচুর জিরা ধরেছে। আমিও আগামীতে জিরা চাষ করতে চাই। কম খরচে এবং কম সময়ে ফলন পাওয়া যায়, এটা আমাদের জন্য লাভজনক হতে পারে।”
তাসির উদ্দিন নামে এক কৃষক বলেন, “অনলাইনের মাধ্যমে বীজ সংগ্রহ করে নতুন ফসল হিসেবে জিরা চাষ শুরু করা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সীমান্ত অঞ্চলে জিরা চাষের এই সাফল্য অন্য কৃষকদেরও উৎসাহিত করছে।”
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আরজেনা বেগম বলেন, “উন্নতমানের বীজ ও সঠিক পরিচর্যার কারণে ভালো ফলন পাওয়া গেছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের মসলা ফসলের চাষ বাড়লে এলাকায় নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হবে।”