দেহঘড়ি

হার্ট ফেইলিউর হয়েছে কিনা বুঝবেন যেভাবে

হার্ট ফেইলিউর জটিল একটি সমস্যা। এটি কখনো ধীরগতিতে মৃত্যু ডেকে আনে। কখনও হঠাৎ করেই হয়ে যায়। ঘটনাটি তখনই ঘটে যখন হার্টের পেশী যতটুকু রক্ত পাম্প করা উচিত ততটুকু করতে পারে না। এর কারণগুলো হলো: ধমনী সরু হয়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং স্থুলতা। এই লেখায় হার্ট ফেইলিউরের গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ দেওয়া হলো। মনে রাখবেন, যে কোনো একটি উপসর্গের অবনতি ঘটলে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

শ্বাসকষ্ট

শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পাঠাতে হার্ট এবং ফুসফুস একসঙ্গে কাজ করে। হার্টের ডান অংশ অক্সিজেন নিঃশেষিত রক্ত গ্রহণ করে এবং রক্ত ফুসফুসে পাম্প করে। হার্ট ফেইলিউর এই প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করে বলেই তখন রোগীর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

কঠিন শরীরচর্চা

হার্ট ফেইলিউর হলে বিশ্রামেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এমনকি এক রুম থেকে অন্য রুমে হেঁটে গেলেও হাঁপিয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। শরীরচর্চার সময় হার্ট রেট বেড়ে যাওয়া হলো হার্ট ফেইলিউরের আরেকটি নির্দেশক। ফলে অল্প পরিশ্রমে হাঁপাতে থাকলে বা হার্ট রেট বেড়ে গেলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

সমতলে ঘুমাতে কষ্ট

সুস্থ মানুষ যে কোনো পজিশনে ঘুমাতে পারেন। কিন্তু হার্ট ফেইলিউর হলে সমতলে শুয়ে থাকা কষ্টকর হতে পারে। এই সমস্যা শনাক্ত করার অন্যতম উপায় হলো- মাথা উঁচুতে রেখে ঘুমালে শ্বাসকষ্ট কমবে। কারণ এই পজিশন ফুসফুসের চাপ কমিয়ে দেয়।

পা ফোলা এবং ওজন বৃদ্ধি

হার্ট সঠিকভাবে কাজ না-করলে কিডনি পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে পারে না। ফলে অঙ্গটি শরীরে তরল ধরে রেখে ক্ষতিপূরণের চেষ্টা করে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি প্রথমে পায়ে লক্ষ্য করা যায়। শরীরের বিভিন্ন অংশে তরল জমে যাওয়াকে চিকিৎসা শাস্ত্রে ‘ইডিমা’ বলে। পায়ে একটি আঙুল চেপে ছেড়ে দেওয়ার পর, সেখানে কয়েক সেকেন্ড পর্যন্ত গর্ত দেখা গেলে বুঝে নিতে পারেন যে ইডিমা হয়েছে। হার্ট ফেইলিউর হলে কেবল পায়ে নয়, পেট ও বাহুতেও তরল জমতে পারে। ফলে ওজন দ্রুত বেড়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে এটি হলো ইডিমা। বিষয়টি হঠাৎ করেই ঘটতে পারে।

ঘনঘন প্রস্রাব

হার্ট ফেইলিউরের একটি লক্ষণকে ডায়াবেটিসের লক্ষণ ভেবে ভুল হতে পারে। তা হলো ঘনঘন প্রস্রাব, বিশেষ করে মধ্যরাতে। অনেকে বিষয়টিকে বয়সজনিত স্বাভাবিক কারণ ভেবে উপেক্ষা করেন। কেউ কেউ পানি পান কমিয়ে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে ইডিমা আরো শোচনীয় হয়, কারণ শরীর পানিশূন্যতা প্রতিরোধে পানি ধরে রাখতে শুরু করে। ঘনঘন প্রস্রাব হলে প্রথমে ডায়াবেটিস টেস্ট করতে হবে। ডায়াবেটিস শনাক্ত না হলে হার্ট ফেইলিউর আছে কিনা নির্ণয় করতে কার্ডিওলজিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে।

সবসময় ক্লান্তি

হার্ট ফেইলিউরজনিত ক্ষতিপূরণের জন্য শরীর পেশি ও প্রান্তীয় অঙ্গের মতো কম গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে মস্তিষ্কের মতো বেশি গুরুত্বপূর্ণ অংশে রক্ত পাঠিয়ে থাকে। ফলে সবসময় ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব হবে। এমনকি এ সময় ক্ষুধা কমে যাবে। কারণ হার্ট ফেইলিউর হলে আমাদের হার্ট পরিপাকতন্ত্রকেও কম গুরুত্ব দেয়। অর্থাৎ হার্টের কার্যক্ষমতা কমে গেলে পরিপাকতন্ত্র থেকে শরীরের অন্য অংশে রক্ত চলে যায় বলে পাকস্থলি ও পরিপাকনালীর কাজ কমে যায়। তখন বদহজম, ক্ষুধামন্দা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। 

মাথা ঘোরানো বা বিভ্রান্তি

হার্ট ফেইলিউরে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত না পৌঁছলে বিভিন্ন উপসর্গে ভুগতে হতে পারে। উল্লেখযোগ্য উপসর্গ হলো- মাথা ঘোরানো, ভুলে যাওয়া, বিভ্রান্তি, চেনা পরিবেশ অচেনা লাগা এবং মনোযোগে সমস্যা। হাত-পায়ে সবসময় ঠান্ডা অনুভূতিও হতে পারে। সবসময় শীত শীত লাগা হার্ট ফেইলিউরের হালকা নির্দেশক হতে পারে।