চিকিৎসকেরা বলেন, ‘‘ওবেসিটির সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে’’।—অনেকের ধারণা, শুধু মদ্যপান করলেই ফ্যাটি লিভার হয়। কিন্তু বাস্তবে এই ধারণা পুরোপুরি ভুল। বর্তমানে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ)–এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো সেডেন্টারি লাইফস্টাইল।
লিভারে মেদ জমার ঝুঁকি বাড়ায় অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস। আবার অনেক ক্ষেত্রে জিনগত কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকেরা বলেন, ‘‘নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করলে ওবেসিটি, ফ্যাটি লিভার ও ডায়াবেটিসের মতো একাধিক রোগের ঝুঁকি একসঙ্গে কমানো সম্ভব। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো—অনেক সময় পরীক্ষা না করানো পর্যন্ত বোঝাই যায় না যে লিভারে মেদ জমেছে। তাই অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করলে আগে থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।’’
জানেন কী—ফ্যাটি লিভার পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব—তাও ওষুধ ছাড়াই। ফ্যাটি লিভার সারাতে যা যা করবেন স্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলই মেনে চলুন
সুস্থ থাকার কোনও শর্টকাট নেই। সময়মতো খাবার খেতে হবে, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে হবে এবং পুষ্টিকর ও সঠিক খাবার খেতে হবে। এই ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনে। এর সঙ্গে প্রতিদিন শরীরচর্চা করা অত্যন্ত জরুরি। এক্সারসাইজ়ের মাধ্যমে নিয়মিত ঘাম ঝরাতে না পারলে ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।
তেল খাওয়ায় লাগাম দিন
ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পেতে রান্নায় তেলের ব্যবহার কমাতে হবে। সাদা তেল এড়িয়ে চলতে হবে, রান্নায় সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন এ ছাড়া সীমিত পরিমাণে ঘি খেতে পারেন। তেলের বদলে পরিমিত ঘি খাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর। ঘি-তে থাকা উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখতে হবে—পরিমাণই আসল চাবিকাঠি।
ডিটক্স নয়, ভরসা রাখুন প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে
লিভারের জন্য আলাদা করে ডিটক্স ওয়াটার খাওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ লিভারের কাজই হলো শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেওয়া। এই প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করে তোলে গ্লুটাথিয়ন নামের একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
গ্লুটাথিয়ন সহজেই পাওয়া যায় যেসব ফলে— বেরিজাতীয় ফল, বিভিন্ন শাকসবজি, রাঙা আলু, টমেটো এবং গাজর। তাই প্রতিদিনের ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি ও ফল রাখুন। এতেই ধীরে ধীরে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে।