ভালোবাসা মানেই শুধু হার্ট সিম্বল কিংবা ভ্যালেন্টাইনস ডে নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ভালোবাসাপূর্ণ সম্পর্ক মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। UT Health Austin–এর ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার মিকায়েলা ফ্রিসেল বলেন,“ভালোবাসা মানসিক, আবেগিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলে।’’
আয়ু বৃদ্ধি করে গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত মানুষ বা যাদের শক্ত সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে তারা সাধারণত বেশি দিন বাঁচেন। ভালোবাসাময় সম্পর্কগুলো হার্ট অ্যাটাক, কিছু ক্যান্সার এবং নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। কেননা, ভালোবাসলে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে ওঠে, মানসিক চাপ কমে এবং আবেগিক সমর্থন পাওয়া যায়।
হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখে সমর্থনমূলক সম্পর্ক স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রদাহ কমায়, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। গবেষণায় দেখা গেছে, সুখী দাম্পত্য জীবনে থাকা ব্যক্তিদের হৃদ্রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
রক্তচাপ কমায় সুখী দম্পতিদের রক্তচাপ সাধারণত ভালো থাকে। কঠিন সময়ে পাশে কেউ আছে—এই অনুভূতি মানসিক চাপ কমায়, যা সরাসরি রক্তচাপ ও হৃদ্স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
উদ্বেগ কমায় এমআরআই স্ক্যানে দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল সম্পর্কে থাকা মানুষের মস্তিষ্কের আনন্দ কেন্দ্র বেশি সক্রিয় থাকে, আর উদ্বেগ-সম্পর্কিত অংশ কম সক্রিয় হয়। ফলে তারা বেশি নিরাপদ ও শান্ত অনুভব করেন।
মানসিক চাপ কমায় যখন কেউ কথা শোনে, বুঝতে চেষ্টা করে—তখন মানসিক চাপের প্রভাব অনেক কমে যায়। এটি স্ট্রেস হরমোন কমায় এবং মানসিক দৃঢ়তা বাড়ায়।
বিষণ্নতা কমায় ভালোবাসা ও সামাজিক সংযোগ একাকীত্ব ও বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে। এ সময় মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন ও সেরোটোনিন নামক “ভালো লাগার হরমোন” নিঃসৃত হয়, যা মানসিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ভালোবাসা ও সমর্থন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।যাদের শক্ত সমর্থন ব্যবস্থা আছে, তারা অসুস্থ হলে দ্রুত সুস্থ হন।
ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে গবেষণায় দেখা গেছে, সুখী দম্পতিরা কম পিঠব্যথা ও মাথাব্যথার অভিযোগ করেন। তাদের স্ট্রেস কম থাকে। স্ট্রেস কমলে শরীর ব্যথা নিয়ন্ত্রণ ভালোভাবে করতে পারে এবং ঘুমও উন্নত হয়।
অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রায় ৮০% অন্ত্রে অবস্থান করে।ভালোবাসার অনুভূতি অন্ত্রের উপকারী জীবাণুগুলোর ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে, যা হজম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঘুমের মান উন্নত করে ভালোবাসা মানসিক চাপ কমায়, ফলে ঘুম ভালো হয়।গবেষণায় দেখা গেছে, সুখী দম্পতিরা প্রায় ১০% বেশি ভালো ঘুমের অভিজ্ঞতা পান।
স্বাস্থ্যকর, দীর্ঘ ও সুখী জীবনযাপন করতে চাইলে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলুন যা আপনাকে নিরাপদ এবং মূল্যবান মনে করাতে পারে।
সূত্র: ইউটি হেলথ অস্টিন