দেহঘড়ি

শরীরে ভিটামিন বি–১২ এর কী কাজ?

ভিটামিন বি–১২ এমন একটি পুষ্টি উপাদান, যা শরীরের শক্তি উৎপাদন থেকে শুরু করে স্নায়ুতন্ত্রের সুস্থতা পর্যন্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজে ভূমিকা রাখে। যারা সব সময় ক্লান্তি বা শক্তির অভাব অনুভব করেন, তাদের অনেক সময়ই ভিটামিন বি–১২ সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এই ভিটামিন রক্তের লোহিত কণিকা তৈরি, স্নায়ুর কার্যকারিতা বজায় রাখা এবং শরীরে শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে অনেকের প্রশ্ন থাকে—ভিটামিন বি–১২ সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার পর যদি ঘুম পায়, তা কি স্বাভাবিক? গুরগাঁওয়ের প্যারাস হেলথ হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. আর. আর. দত্ত জানান, সাধারণত ভিটামিন বি–১২ নিজে থেকে ঘুম ঘুম ভাব তৈরি করে না। বরং এটি শরীরের শক্তি উৎপাদনে সহায়ক।

তিনি বলেন, ‘‘ভিটামিন বি–১২ মূলত প্রাণিজ খাদ্যে পাওয়া যায়। এটি রক্তের লোহিত কণিকা তৈরি, স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং ডিএনএ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি শরীরে শক্তি উৎপাদনেও সহায়তা করে।’’

ডা. দত্তের মতে, ভিটামিন বি–১২ সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পর যদি কেউ অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করেন, তাহলে অন্য কারণগুলোও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। যেমন—ঘুমের মান, শরীরের কোনো অন্তর্নিহিত রোগ, কিংবা খাদ্যাভ্যাস।

কেন বি–১২ খাওয়ার পর ঘুম পেতে পারে? কিছু ক্ষেত্রে ভিটামিন বি–১২ খাওয়ার পর ঘুম ঘুম ভাব দেখা দিতে পারে, তবে তা সাধারণত ভিটামিনের সরাসরি প্রভাব নয়। বরং অন্য স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে এমনটি হতে পারে। যেমন—রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের ভারসাম্যহীনতা, শরীরে পানিশূন্যতা বা অতিরিক্ত কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) থাকলে এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

অনেক সময় মানুষ আগে থেকেই ক্লান্তি বা অতিরিক্ত অবসাদে ভুগতে থাকেন, কিন্তু প্রকৃত কারণ জানা থাকে না। তখন তারা ভিটামিন বি–১২ সাপ্লিমেন্ট শুরু করলে মনে হতে পারে এই সাপ্লিমেন্টই ক্লান্তির কারণ।

এ ছাড়া, দীর্ঘদিন বি–১২ এর ঘাটতি থাকলে সাপ্লিমেন্ট শুরু করার পর শরীর এক ধরনের সামঞ্জস্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। এ সময় বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন হতে পারে, যার ফলে সাময়িকভাবে ঘুম ঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।

কিছু বিরল ক্ষেত্রে সাপ্লিমেন্টের অতিরিক্ত উপাদান বা অন্য কোনো ওষুধের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়াও এমন উপসর্গের কারণ হতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় ধরে যদি ভিটামিন বি–১২ খাওয়ার পর ঘুম ঘুম ভাব থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অতিরিক্ত ক্লান্তিও হতে পারে বি–১২ ঘাটতির লক্ষণ মজার বিষয় হলো, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব অনেক সময় ভিটামিন বি–১২ ঘাটতিরও প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

ডা. দত্ত বলেন, ‘‘ভিটামিন বি–১২ ঘাটতির প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—অতিরিক্ত ক্লান্তি, বেশি ঘুম পাওয়া এবং সব সময় অবসাদ অনুভব করা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঘাটতি যদি চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে আরও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, মনোযোগের সমস্যা, তীব্র মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া।’’

এর কারণ হলো ভিটামিন বি–১২ সুস্থ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। এই কণিকাগুলো শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। কিন্তু শরীরে বি–১২ কমে গেলে অক্সিজেন সরবরাহও কমে যায়। ফলে দুর্বলতা, অবসাদ এবং অতিরিক্ত ঘুমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার কারণে হাত-পায়ে ঝিনঝিনি ভাব বা অবশ লাগার অনুভূতিও হতে পারে। দীর্ঘদিন ভিটামিন বি–১২ ঘাটতি থাকলে হঠাৎ রাগ, বিরক্তি বা হালকা বিষণ্নতার মতো মানসিক পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে।

সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস