দেহঘড়ি

রাতে খুব ক্ষুধা নিয়ে ঘুমালেও সকালে কেন ক্ষুধা লাগে না?

আপনি কি কখনো এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন—রাতে খুব ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে গেলেন, কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে মনে হলো— খেতে একেবারেই ইচ্ছা করছে না? বিষয়টা যেন একটু অদ্ভুত লাগে, মনে হয় শরীর যেন রাতারাতি নিজেকে নতুন করে ‘রিসেট’ করে ফেলেছে। কেন এমন হয়?   ভারতীয় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. মোহনিশ কাটারিয়ার মতে, এই বিষয়টি একেবারেই স্বাভাবিক।  

তিনি বলেন, “রাতের ঘুমের সময় শরীর নিজের শক্তি ব্যবহারের ধরন ও হরমোনের মাত্রা পরিবর্তন করে। ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন যেমন ঘ্রেলিন এবং লেপটিন ওঠানামা করে। এর ফলে অনেকের ক্ষেত্রে সকালে ক্ষুধা কমে যেতে পারে।”

আরও কিছু কারণ আছে বলে উল্লেখ করেছেন এই চিকিৎসক। 

শক্তির চাহিদা কমে যায় ঘুমের সময় শরীর খুব কম ক্যালরি ব্যবহার করে। তাই সকালে উঠেই শরীরের তেমন জরুরি শক্তির প্রয়োজন হয় না, ফলে ক্ষুধাও কম অনুভূত হয়।

ক্ষুধা ধীরে ধীরে বাড়ে অনেকের ক্ষেত্রে সকালে ক্ষুধা কম থাকে, কিন্তু দিনের সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। তাই মাঝে মাঝে সকালে ক্ষুধা না লাগা স্বাভাবিক।

ঘুমের ধরন অনিয়মিত বা খারাপ ঘুম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনে প্রভাব ফেলে, ফলে পরদিন ক্ষুধা কম লাগতে পারে।

মেটাবলিজম রাত ও ভোরবেলায় শরীরের মেটাবলিজম ধীরগতির থাকে, তাই ক্ষুধার সংকেতও দুর্বল হয়।

খাদ্যাভ্যাস রাতে দেরিতে খাওয়া বা একেবারে না খেয়ে ঘুমানো—দুটো ক্ষেত্রেই শরীর সাময়িকভাবে নিজেকে মানিয়ে নেয়।

সার্কাডিয়ান রিদম শরীরের নিজস্ব ঘড়ি অনেক সময় ক্ষুধা অনুভূতিকে দিনের পরে সময়ের জন্য ‘শিডিউল’ করে রাখে। কখন চিন্তার বিষয় হতে পারে?

সাধারণত এটি মাঝে মাঝে হলে চিন্তার কিছু নেই। তবে যদি নিয়মিত এমন হয় এবং নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—

সারাদিন ক্ষুধামন্দা থাকা  অকারণে ওজন কমে যাওয়া  দুর্বলতা বা ক্লান্তি  বমি ভাব, পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যা  এগুলো থাকলে এটি কোনো গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বা মেটাবলিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস