দেহঘড়ি

ফল না জুস—কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?

গরমের দিনে এক গ্লাস ঠান্ডা ফলের জুস স্বস্তি এনে দেয়। আবার স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা নিয়মিত আস্ত ফল খাওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। প্রশ্ন হলো—স্বাস্থ্যের জন্য আসলে কোনটি বেশি উপকারী? বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য, যারা ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান।

ফলের জুস কী ক্ষতিকর? আস্ত ফল এবং ফলের জুস—দুটোই একই উৎস থেকে এলেও পুষ্টিগুণের দিক থেকে এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। আস্ত ফলে থাকে প্রচুর ফাইবার, যা শরীরে শর্করার শোষণ ধীরে করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে শক্তি ধীরে ধীরে সরবরাহ হয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায় না। অন্যদিকে, ফলের রস তৈরি করার সময় বেশিরভাগ ফাইবারই বাদ পড়ে যায়। এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি খুব দ্রুত রক্তে মিশে গিয়ে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে।

তবে এর মানে এই নয় যে ফলের জুস সম্পূর্ণ ক্ষতিকর। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে ১০০ শতাংশ খাঁটি ফলের রস পান করলে তা সরাসরি ডায়াবেটিস সৃষ্টি করে না। বরং সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন নিয়মিত বেশি পরিমাণে বা অতিরিক্ত চিনি মিশিয়ে জুস পান করা হয়। এতে ক্যালরি ও চিনি গ্রহণ বেড়ে গিয়ে শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সব ধরনের জুসের প্রভাব একরকম নয়। যেমন, আপেল বা আঙুরের জুস তুলনামূলক দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে, যেখানে পাল্পযুক্ত জুস কিছুটা ধীরে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য এই পার্থক্যটি আরও বেশি গুরুত্ব বহন করে। কারণ এই অবস্থায় শরীরের ইনসুলিন প্রতিক্রিয়া কম থাকায় শর্করার ওঠানামা দ্রুত ঘটে।

সবদিক বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞরা আস্ত ফল খাওয়ার পক্ষেই বেশি জোর দেন। কারণ এটি শুধু শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক নয়, বরং সামগ্রিকভাবে হজম ও পুষ্টির ভারসাম্য রক্ষা করে। তবে জুস একেবারে বাদ দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। পরিমিত পরিমাণে, চিনি ছাড়া এবং সম্ভব হলে খাবারের সঙ্গে জুস খেলে এর ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমানো যায়।

তবে মাঝে মধ্যে ফলের জুসও পান করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানতে হবে।

প্রতিদিন ১ গ্লাস (৪–৬ আউন্স) এর বেশি নয় খাবারের সঙ্গে জুস পান করা  চিনি ছাড়া ১০০% প্রাকৃতিক জুস বেছে নেওয়া 

সূত্র: এই সময়