পহেলা বৈশাখ বাঙালির অন্যতম ঐতিহ্য এবং প্রাণের উৎসব। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বাংলার ঘরে ঘরে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের, যার মধ্যে পান্তাভাত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং সহজপাচ্য হওয়ায় পান্তাভাত অনেকেরই প্রিয়।
পান্তাভাত মূলত আগের দিনের ভাত পানিতে ভিজিয়ে তৈরি করা হয়। এটি খেলে শরীরে প্রশান্তি আসে, গরমে স্বস্তি মেলে এবং পরিপাক ক্রিয়া উন্নত হয়। তীব্র গরমে এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং ডায়রিয়া ও হিটস্ট্রোক প্রতিরোধেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এ কারণে পহেলা বৈশাখের মতো গরমের সময় পান্তাভাত খাওয়ার প্রচলন দীর্ঘদিনের।
তবে পান্তাভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। পুষ্টিবিদদের মতে, পান্তাভাতে সবসময় পরিষ্কার ও শোধিত পানি ব্যবহার করা উচিত। নোংরা বা অপরিষ্কার পানি ব্যবহার করলে কোলাই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। এছাড়া ভাত ১২ ঘণ্টার বেশি ভিজিয়ে রাখা ঠিক নয়, কারণ বেশি সময় ভিজে থাকলে তা অতিরিক্ত গেঁজে গিয়ে পেটের সমস্যার কারণ হতে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো—পান্তাভাত খেলে অনেক সময় ঘুম পায় এবং শরীর ঢিলে লাগে। তাই যদি রাতে জেগে কাজ করার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে পান্তাভাত না খাওয়াই ভালো। এতে কাজে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
সব মিলিয়ে, পান্তাভাত পহেলা বৈশাখের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে এবং গরমে শরীরের জন্য উপকারী একটি খাবার। তবে সঠিক নিয়ম মেনে খেলে তবেই এর উপকারিতা পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব।
সূত্র: নিউজ১৮