গ্রীষ্মকালে শরীরকে ঠান্ডা রাখা সহজ নয়, কিন্তু এটি জরুরি। কারণ অতিরিক্ত গরমে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ব্যাহত হলে দেখা দিতে পারে হিট এক্সহস্টশন ও হিট স্ট্রোক এর মতো গুরুতর সমস্যা।
অতিরিক্ত গরমে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমন—
মাথা ঘোরা অতিরিক্ত ক্লান্তি মাথাব্যথা অতিরিক্ত ঘাম বমি বমি ভাব বা বমিএসব লক্ষণ আরও গুরুতর হয়ে হিট স্ট্রোকে রূপ নেয়, তাহলে শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে উঠে যেতে পারে। এ সময় রোগীর মধ্যে বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক আচরণ বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতি জীবনঝুঁকিপূর্ণ, তাই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। শরীরকে নিরাপদ রাখতে হলে অতিরিক্ত তাপ বের করে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই গরমে সুস্থ থাকতে কিছু কার্যকর উপায় মেনে চলা উচিত। গরমে সুস্থ থাকার ৭টি গুরুত্বপূর্ণ উপায় জেনে নিন।
১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন শরীর ঠান্ডা রাখতে পানি সবচেয়ে বড় সহায়ক। বিশেষ করে ব্যায়ামের আগে, সময় ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে লবণ ও খনিজ বের হয়ে যায়, তাই মাঝে মাঝে ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয়ও গ্রহণ করা ভালো।
২. ধীরে ধীরে গরমে অভ্যস্ত হন হঠাৎ করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ থেকে বের হয়ে তীব্র রোদে ভারী কাজ বা ব্যায়াম শুরু করলে শরীর তা সহ্য করতে পারে না। তাই ধীরে ধীরে বাইরে সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন অতিরিক্ত ওজন শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে এবং শরীরে বেশি তাপ জমতে দেয়। তাই সুস্থ থাকতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
৪. উপযুক্ত পোশাক পরুন হালকা, ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের পোশাক গরমে আরাম দেয়। বাইরে গেলে টুপি বা ছাতা ব্যবহার করলে সূর্যের তাপ থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়।
৫. অসুস্থ থাকলে সতর্ক থাকুন জ্বর বা সংক্রমণের সময় শরীরের তাপমাত্রা আগেই বেড়ে থাকে। তাই অসুস্থতা কাটার পর কিছুদিন অতিরিক্ত গরম ও কঠোর শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন।
৬. একা না থেকে ‘বাডি সিস্টেম’ ব্যবহার করুন বিশেষ করে ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। একা থাকলে বিপদের সময় সাহায্য পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই কাছের কেউ যেন খোঁজ নেয়—এমন ব্যবস্থা রাখা জরুরি।
৭. সময় ও তাপমাত্রা বিবেচনায় রাখুন দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে সকাল বা সন্ধ্যায় বাইরে থাকা ভালো। এছাড়া বাইরে যাওয়ার আগে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার সমন্বয়ে তৈরি ‘হিট ইনডেক্স’ দেখে নেওয়া উচিত।
সূত্র: মিডস্টার হেলথ