আপনি যা খান, পান করেন, শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করেন বা ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করান—সবকিছুই শেষ পর্যন্ত লিভারের মাধ্যমে পরিশোধিত হয়। তাই লিভার সুরক্ষিত রাখতে এবং সুস্থ থাকতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারেন। আজ থেকেই শুরু করা যেতে পারে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস নিচে দেওয়া হলো—
হেপাটাইটিস এ ভ্যাকসিন নিন, যাতে লিভারে আক্রমণকারী আরেকটি ভাইরাস থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
অ্যালকোহল পান ও ধূমপান এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত লিভারের আরও ক্ষতি করে।
কোনো ভেষজ ওষুধ বা ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কিছু উপাদান হেপাটাইটিস বি-এর ওষুধের কার্যকারিতায় বাধা দিতে পারে বা লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যাসিটামিনোফেন বা প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ কিংবা অন্য কোনো ওষুধ সেবন করবেন না। কারণ এসব ওষুধের অনেকগুলোই লিভারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়।
রং, থিনার, আঠা, গৃহস্থালি পরিষ্কারক, নেইলপলিশ রিমুভারসহ বিষাক্ত রাসায়নিকের ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করা এড়িয়ে চলুন। এগুলো লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
ফলমূল, পূর্ণ শস্য, মাছ, চর্বিহীন মাংস এবং প্রচুর শাকসবজি সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর খাবার খান। বিশেষ করে বাঁধাকপি, ব্রকোলি ও ফুলকপির মতো ক্রুসিফেরাস সবজি লিভারকে পরিবেশগত ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার ও পানীয় সীমিত করুন। যেমন—সফট ড্রিংকস, ফলের জুস, মিষ্টান্ন, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ইত্যাদি।
স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার কম খান। যেমন—অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস ও তেলে ভাজা খাবার।
কাঁচা বা আধা-সেদ্ধ ঝিনুকজাতীয় সামুদ্রিক খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন। এগুলোতে ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বাদাম, ভুট্টা, চিনাবাদাম, জোয়ার ও মিলেটজাতীয় খাবারে ছত্রাক আছে কি না পরীক্ষা করুন। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে সংরক্ষণ করলে এসব খাবারে ‘অ্যাফ্লাটক্সিন’ তৈরি হতে পারে, যা লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।
প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
সূত্র: হেপাটাইটিস বি ফাউন্ডেশন