দেহঘড়ি

ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে করণীয়

আগে অতিরিক্ত মদ্যপানকারী মধ্যবয়সীদের রোগ হিসেবে পরিচিত হলেও, বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও—এমনকি যারা একেবারেই মদ পান করেন না বা খুব কম করেন—তাদের মধ্যেও ফ্যাটি লিভারের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে উল্টে দেওয়া সম্ভব। তবে অবহেলা করলে এটি নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়াটোহেপাটাইটিস, লিভারে প্রদাহ, সিরোসিস (লিভারের স্থায়ী ক্ষত) এমনকি লিভার ক্যানসারের কারণ হতে পারে। জীবনযাত্রার পরিবর্তনে ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে করণীয় জেনে নিন। 

১. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন অতিরিক্ত ওজন থাকলে মোট শরীরের ওজনের ৫–১০ শতাংশ কমাতে পারলেও লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।

২. সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন প্রতিদিনের খাবারে রাখুন— এক-চতুর্থাংশ জটিল শর্করা,  অর্ধেক প্লেট বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, এক-চতুর্থাংশ স্বাস্থ্যকর প্রোটিন (ডাল, বাদাম, মাছ, মুরগির মাংস বা কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার। পরিশোধিত শর্করা ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। চাইলে ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতে পারেন, যেখানে পূর্ণ শস্য, মাছ, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও নন-স্টার্চি সবজির ওপর জোর দেওয়া হয়।

৩. চিনি কমান পরিশোধিত চিনি যতটা সম্ভব খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন। পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

৪. নিয়মিত ব্যায়াম করুন সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০–৬০ মিনিট করে এমন ব্যায়াম করুন যাতে হৃদস্পন্দন কিছুটা বেড়ে যায়। যেমন—

দ্রুত হাঁটা ব্যাডমিন্টন সাইকেল চালানো সাঁতার টেবিল টেনিস

৫. দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

৬. অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন মদ্যপান কমিয়ে দিন, সম্ভব হলে পুরোপুরি পরিহার করুন।

৭. ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন অপ্রয়োজনীয় ও লিভারের ক্ষতি করতে পারে এমন ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না।

৮. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন লিভারের কার্যকারিতা ও সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্যের পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

চিকিৎসা কী? ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসার মূল ভিত্তি হলো জীবনযাত্রার পরিবর্তন। পাশাপাশি প্রয়োজন হতে পারে— ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক রোগী নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সফলভাবে ফ্যাটি লিভার থেকে সুস্থ হয়েছেন। তাই বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে ওজন ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে রোগটি জটিল আকার ধারণ না করে।

সূত্র: হেলথ এক্সচেঞ্জ