রাইজিংবিডি স্পেশাল

ঈদের কেনাকাটায় স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা ফুটপাত

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র এক দিন বাকি। ইদকে সামনে রেখে পরিবারের সবাইকে নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজধানীবাসী। সামর্থ অনুযায়ী নতুন পোশাকসহ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা করছেন সব শ্রেণির মানুষ। তবে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে ঘাম ঝরছে স্বল্প আয়ের মানুষদের। তাই, বড় বড় শপিংমলের চেয়ে ফুটপাতের দোকানগুলোই হয়ে উঠেছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের প্রধান ভরসাস্থল।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁও আবাসিক এলাকার সি ব্লকে খিলগাঁও গার্লস স্কুল-সংলগ্ন ফুটপাত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি অস্থায়ী দোকানে ঝুলছে শিশু ও বড়দের নানা রঙের পোশাক। কোথাও শাড়ি, কোথাও থ্রি-পিস, আবার কোথাও জুতা কিংবা বিছানার চাদর। ক্রেতাদের ভিড়ে হাঁটার জায়গা পর্যন্ত সংকুচিত হয়ে এসেছে।

ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে পরিবারের জন্য নতুন পোশাক কিনতে বেরিয়েছেন অনেকেই। তবে, বড় বড় শপিংমলের তুলনায় ফুটপাতে দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় ভিড় বেশি। বিক্রেতাদের হাঁকডাক, দরদাম আর ক্রেতাদের ব্যস্ততায় ফুটপাতজুড়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ।

বিত্রেতাদের হাঁকডাক ও ক্রেতাদের কেনাকাটা— সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে রাস্তার পাশের এই দোকানগুলোতে। ফুটপাতের বেশিরভাগ ব্যবসায়ী দম ফেলার সুযোগ পাচ্ছেন না। ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, তাদের বিক্রিও ততই বাড়ছে।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, শিশু, তরুণী ও নারীদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের আকর্ষণীয় শাড়ি, বোরকা, থ্রি পিস, টু পিস, জুতা, কসমেটিক, ব্যাগ, চাদরসহ বাচ্চাদের বাহারি রঙের পোশাক বিক্রি করা হচ্ছে। ৩০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পোশাক কিনতে পারছেন ক্রেতারা। এর মধ্যে থ্রি পিস ও টু পিস ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ হাজার টাকা, মানভেদে শাড়ি ও বোরকা ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকা এবং জুতা ও ব্যাগ ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বাচ্চাদের জামাকাপড় ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। রাজধানীর বড় বড় মার্কেটের চেয়ে এখানে অল্প লাভে পোশাক বিক্রি করা হয়, তাই ক্রেতাদের ভিড় বেশি। 

ক্রেতারা জানান, সাধ এবং সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করে ফুটপাতের এই দোকানগুলো থেকে পছন্দের পোশাক কেনা যাচ্ছে। কম দামে রকমারি পোশাক কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে এই মার্কেটে আসছেন ক্রেতারা।

মগবাজারের মধুবাগ থেকে আসা গৃহিণী নাসিমা আক্তার বলেন, “ফুটপাত হলেও এখানে ভালো মানের জামা-কাপড় পাওয়া যায়। দামও হাতের নাগালে। তাই, বাচ্চার জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি।”

আরেক ক্রেতা জামাল উদ্দিন বলেন, “অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় এখানে দাম কম। পছন্দের জামা পেয়ে দরদাম করে কিনে নিচ্ছি।”

শুধু পোশাকই নয়, ঈদকে ঘিরে ঘর সাজানোর সামগ্রীও কিনছেন অনেকে। মাসুমা খাতুন নামের এক ক্রেতা বলেন, “কম দামে ভালো একটা চাদর পেলাম। বেশি কিছু কেনার পরিকল্পনা ছিল না, কিন্তু সস্তা দেখে কিনে ফেললাম।”