রাইজিংবিডি স্পেশাল

ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা, পঙ্গু হাসপাতালে দেড় হাজারের বেশি রোগী

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি।

রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) গত পাঁচ দিনে ১ হাজার ৬২১ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪৩১ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আহতদের দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪৯৩ জন, যা মোট দুর্ঘটনায় আহত রোগীর ৩০ শতাংশেরও বেশি।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত তরুণের সংখ্যা বেশি। কারো হাত-পা ভেঙে গেছে, কারো মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে, আবার কেউ কেউ আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি।

চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে মো. সুমন (২৮), ইসমাইল হোসেন (২২), আরাফ ইসলাম (৩৫) ও শরীফ আহমেদ (৪০) জানান, তারা সবাই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

আহত আরাফ হোসেন বলেন, “ঈদের দিন বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়ে দ্রুতগতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারাই। হাত ভেঙে এখানে চিকিৎসা নিচ্ছি।”

পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন তুষার মিয়া (৩৭) বলেন, “স্থানীয় বাজার থেকে অটোরিকশায় ফেরার সময় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পিছন থেকে একটি বাস ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় আমার কনুই ও গোড়ালি ভেঙে গেছে। চিকিৎসক বলছেন, ছয় মাসের আগে পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব হবে না।”

হাসপাতালটির চিকিৎসকরা বলছেন, “অর্থোপেডিক চিকিৎসা সময় সাপেক্ষ।ঈদের সময় এখানে অনেক জটিল আহত রোগী ভর্তি হয়। অনেকের হাত-পা ভাঙা ও মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। এই রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন প্রয়োজন। নিবিড় চিকিৎসা ছাড়া তাদের সম্পূর্ণ সুস্থতা সম্ভব নয়।”

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি।

হাসপাতালটির তথ্য বলছে, ঈদের ছুটিতে রোগীর চাপ সামাল দিতে জরুরি বিভাগে দুই শিফটে ১৮ জন করে চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেছেন। জরুরি বিভাগে ৪১৬টি অপারেশন করা হয়েছে। এক হাজার শয্যার হাসপাতালের ২৯টি অপারেশন থিয়েটার ও জরুরি বিভাগের ৬টি অপারেশন থিয়েটারে সার্বক্ষণিক অপারেশন কার্যক্রম চলছে। এছাড়া ঈদের বন্ধের দুই দিনে বহির্বিভাগে প্রায় ৪০০ রোগী সেবা নিয়েছেন। বর্তমানে এক হাজার শয্যার হাসপাতালে প্রায় দেড়গুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। শয্যার মধ্যে ৬০ শতাংশ পেইড বেড এবং ৪০ শতাংশ নন-পেইড বেড।

হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “ঈদের সময় মোটরসাইকেল চালনায় বেপরোয়া গতি, হেলমেট ব্যবহার না করা এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা বেড়ে যায়। এর ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। তরুণরা মোটরসাইকেল চালানোকে বিনোদন হিসাবে নিচ্ছে।”

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি।

তিনি আরো বলেন, “অটোরিকশা ও বাস-ট্রাক চালকদেরও সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও ঝুঁকিপূর্ণ চালনা বন্ধ না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। ঈদের সময় রোগীদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে আমরা বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। সে অনুযায়ী রোগীদের সেবা দিতে পেরেছি।”