রাইজিংবিডি স্পেশাল

সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির মনোনয়ন পাচ্ছেন ডা. মাহমুদা মিতু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু। সংসদ নির্বাচনে তিনি ঝালকাঠি-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে জামায়াত জোটের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে প্রত্যাহার করেন। তার এই ত্যাগসহ দলের জন্য বিভিন্ন সময় কার্যকরী ভূমিকা রাখায় সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হিসেবে তার নাম প্রায় চূড়ান্ত বলে জানা গেছে। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় নাগরিক পার্টির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্য মতে, এনসিপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে ডা. মাহমুদা মিতুর মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত। শিগগিরই দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা করবেন।

এ প্রসঙ্গে দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব জয়নাল আবেদীন শিশির রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‘‘এ বিষয়ে আমাদের দলীয় ফোরামে আলোচনা চলছে। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। জোটের পক্ষে এনসিপি থেকে দুজন যেতে পারে। তবে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে পারবেন।’’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনোনয়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. মাহমুদা মিতু রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‘‘আমি দলের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকে মনোনয়ন দেবে।  এ ক্ষেত্রে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে আমি তাই মেনে নেব।’’

কেন ডা. মিতুতেই ভরসা? 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি ৬টি আসনে জয়লাভ করে। এ হিসেবে দলটি একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে যাচ্ছে। এই একটি আসনের মনোনয়ন নিয়ে দলটির ভেতরে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে দলের জন্য ত্যাগ ও ভূমিকার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এই মনোনয়নের জন্য।

এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, ডা. মাহমুদা মিতু দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। বিষয়টি তাকে নেতৃত্বের অগ্রভাগে নিয়ে এসেছে।  চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি তিনি দলের যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবেও কাজ করছেন। পেশাদারিত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতার সমন্বয় তাকে সংরক্ষিত আসনের জন্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এ ছাড়া যখন জামায়াতের সঙ্গে জোট হওয়ার জন্য একাধিক নারী নেত্রী এনসিপি থেকে পদত্যাগ করছিল, তখন তিনি নিজের আসন জামায়াতের প্রার্থীকে ছেড়ে দিয়ে দৃষ্টান্ত তৈরি করেন। বিষয়টি এখন দল থেকে মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। তিনি দলের দুর্দিনের সহযাত্রী এবং দীর্ঘ সময় ধরে এনসিপির আদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, দলের প্রতি তার একনিষ্ঠতা ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থার কারণেই নীতিনির্ধারকরা তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

ডা. মাহমুদা মিতু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চিকিৎসক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের সহায়তা প্রদান করেন। তিনি চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রাথমিক সেবায় সহায়ক ভূমিকা রাখেন। 

আরো আলোচনায় আছেন যারা

এনসিপি সংরক্ষিত নারী আসনে একটি আসন পাবে। তবে জোটসঙ্গী জামায়াত এনসিপিকে আরো একটি আসন ছেড়ে দিতে পারে বলে জোর আলোচনা রয়েছে জোটের নীতিনির্ধারণী ফোরামে। সেক্ষেত্রে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের নাম আলোচনায় রয়েছে। এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মনোনয়ন ঠিক করবেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

কোন পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে দলগুলো এই আসন পেয়ে থাকে। ‘জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪' অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০টি আসনের মধ্যে ৩০০টি আসনে সাধারণ ভোটারদের সরাসরি ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। বাকি ৫০টি আসন কেবল নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। দল বা জোটগুলো ৩০০ আসনের নির্বাচনে যে কয়টি আসন জয়লাভ করে, সেই অনুপাত অনুযায়ী এই ৫০টি সংরক্ষিত আসন বণ্টন করা হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দলের প্রাপ্ত সাধারণ আসন সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে ৩০০ দিয়ে ভাগ করা হয়। এই হিসাবের মাধ্যমে দলগুলো তাদের প্রাপ্য আসন সংখ্যা জানতে পারে। আসন বণ্টনের পর রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অনুকূলে বরাদ্দ পাওয়া আসনে যোগ্য নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়। এরপর ৩০০টি সাধারণ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ভোটার হিসেবে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়ে তাদের নির্বাচিত করেন।

এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা বা এলাকা থাকে না। কমিশন এগুলোকে এলাকাভিত্তিক না করে ‘সংরক্ষিত মহিলা আসন-১’, ‘সংরক্ষিত মহিলা আসন-২’ এভাবে ক্রমানুসারে চিহ্নিত করে। তবে তারা সাধারণ সংসদ সদস্যদের মতোই রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়ন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব পালন এবং নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে সরকারি অনুদান পেয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সভাকক্ষে ১১তম কমিশন সভা শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসনসংখ্যা অনুসারে যাদের মনোনয়ন দেবে, মূলত তারাই নির্বাচিত হবেন। এ ক্ষেত্রে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট পাবে ১৩টি আসন এবং একজন স্বতন্ত্র আসন পাবেন।