রাইজিংবিডি স্পেশাল

আজ্ঞাবহ নয়, সেবক হওয়ার বার্তা নিয়ে মাঠে জেলা প্রশাসকরা

আত্মসমালোচনার পাশাপাশি নতুন প্রত্যাশা ও প্রশাসনিক সংস্কারের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে শেষ হলো চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নির্বাচিত সরকারের অধীনে এটিই ছিল প্রথম বড় প্রশাসনিক সমন্বয় সভা।

ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গত ৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। ৬ মে  রাত পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিজেদের অবস্থান, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে সরকারপ্রধান, উপদেষ্টা ও মন্ত্রীরা আলোচনা করেছেন।  

৩৪ অধিবেশন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চার কার্যদিবসে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে ৩০টি ছিল কার্যঅধিবেশন। এতে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা, সিনিয়র সচিব, সচিব ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাঠ প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে বাছাই করা ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।  এর মধ্যে ৩৫৪টি প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।  

প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম জোরদারকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্ম-সৃজন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-গভর্ন্যান্স, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন, পর্যটনের বিকাশ, আইন-কানুন বা বিধিমালা সংশোধন। সর্বোপরি জনস্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে।  

সম্মেলনের শেষ দিনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।  

হাতিয়ার হতে চান না ডিসিরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ ছিল, মাঠ প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা বিশেষ করে জেলা প্রশাসক(ডিসি), পুলিশ সুপার এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে কাজ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে এবারের সম্মেলনে ডিসিরা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে মন্ত্রীদের জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আর কোনোভাবেই  আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে চান না। অতীতের প্রশাসনিক অপকর্মের দায় নিজেদের ওপর নিতে তারা প্রস্তুত নন, বরং তারা নিজেদের পেশাগত সততা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

কয়েকজন ডিসি বৈঠকর বলেছেন, অতীতে রাজনৈতিক চাপ, বদলির ভয় এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের কারণে অনেক সময় বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তারা ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি থেকে মুক্ত থাকতে চান। 

প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: সততা, মেধা ও দক্ষতাই একমাত্র মানদণ্ড

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রশাসনের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দেন।

তিনি বলেন, “সরকারি চাকরির প্রতিটি পদই গুরুত্বপূর্ণ এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে আপস করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া প্রশাসনের জন্য ক্ষতিকর।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “শুধু পদোন্নতি বা পছন্দের পোস্টিংয়ের জন্য কাজ করলে তা সাময়িক লাভ দিলেও দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা নষ্ট করে।   সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হতে হবে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির একমাত্র মানদণ্ড।”

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “একটি শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”  

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, “ডিসিদের জনবান্ধব প্রশাসন গড়ার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। রাষ্ট্রের সেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবায় আপনাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। ভালো মানসিকতা নিয়ে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির জন্য ভালো কিছু করতে হবে।” 

বৈঠকে একাধিক মন্ত্রী বলেছেন, দুঃখজনক হলেও সত্য,  ফ্যাসিস্ট সরকার  কর্মকর্তাদের দিয়ে  জনগণকে অত্যাচার-নির্যাতন ও নিজেদের অপকর্ম ঢাকার কাজে ব্যবহার করেছে।  বর্তমান সরকার ডিসিদের জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাবে৷  এর ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা, ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং সুন্দর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নতি ঘটবে। এছাড়া, সব লেভেল থেকে দুর্নীতি কমাতে হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। অতীতে দায়ের হওয়া ‘গায়েবি’ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো যাচাই করে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এসব মামলা যাচাই করবে। 

তিনি বলেন, “দেশে অপারেশন ডেভিল হান্ট চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।”

চার দিনের সম্মেলন শেষে জেলা প্রশাসকরা সরকারের ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা নিয়ে মাঠে ফিরেছেন। তাদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।   ১. প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা: প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা পরিহার করে দ্রুত, বাস্তবসম্মত ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।  

২. দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স: দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণপূর্বক প্রতিরোধমূলক ও দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।   ৩. নিয়োগ ও পদায়ন: নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে অনুসরণ করতে হবে। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।   ৪. প্রকল্প বাস্তবায়ন: সকল উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে গুণগত মান নিশ্চিতকল্পে কার্যকর তদারকি জোরদার করতে হবে।  

৫. ডিজিটাল প্রশাসন: প্রশাসনিক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে। সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে হবে।  

৬. বাজার নিয়ন্ত্রণ: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। বাজারে মজুতদারি, কারসাজি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিরুদ্ধে নিয়মিত মনিটরিং, অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

৭. কৃষকের সুবিধা: কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সার, বীজ, সেচ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।  

৮. আইনশৃঙ্খলা: আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মব জাস্টিসের নামে অরাজকতা বন্ধে কঠোর হতে হবে।   ৯. জনসেবা: জনগণের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি সেবা প্রদান হয়রানিমুক্ত, বিলম্বমুক্ত ও স্বচ্ছ রাখতে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।   ১০. সামাজিক সুরক্ষা: মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে।   ১১.  সম্প্রীতি ও কর্মসংস্থান:  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে। দেশীয় ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সৃষ্টিমূলক সরকারি উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।   ১২. যুব ও সংস্কৃতি: তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।  

ডিসিদের দাবি

ডিসিরাও মাঠ প্রশাসনে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি তাদের কর্তৃত্ব বাড়ানো, বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ যৌক্তিক কিছু প্রস্তাবনা লিখিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে সরকারপ্রধানের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে।  সীমান্ত এলাকায় আরো বেশি বিজিবি মোতায়েন, নৌপথের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে নৌ-পুলিশ বৃদ্ধি এবং  মেট্রোপলিটন এলাকা ও শিল্পপুলিশের জনবল বৃদ্ধির কথাও বলেছেন তারা।  

দুর্নীতি রোধে ‘জিরো টলারেন্স’

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবারের সম্মেলনে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দুদক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ে সরকারি সেবা প্রদানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর কার্যক্রমকে পুনরায় কার্যকর করা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ডিসিদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে যারা প্রতারণা করে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও তাগিদ দেওয়া হয়।

সাংবাদিকতার নীতিমালা ও ডিজিটাল মিডিয়া

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, “তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত অধিবেশনে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।”

ডিজিটাল মিডিয়ার বিস্তারের কারণে সাংবাদিকতার নামে অনেক ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে, যা মাঠ প্রশাসনের কাজেও ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রকৃত সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা এবং অপসাংবাদিকতা রোধে দ্রুত একটি  কোড অব কন্ডাক্ট বা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।  

আক্ষেপ তবু আশা   একাধিক জেলা প্রশাসক আক্ষেপ করে বলেছেন, তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আলোচনায় প্রাধান্য পায়নি। প্রতিটি অধিবেশনের সময় ছিল একেবারে সংক্ষিপ্ত। মন্ত্রীদের বক্তব্যের পর তেমন কোনো আলোচনার সুযোগ থাকেনি। 

এবারের ডিসি সম্মেলন প্রসঙ্গে একাধিক জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ বলছেন, এই সম্মেলন মাঠ প্রশাসনের জন্য একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে পারে। তবে বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের ওপর যে রাজনৈতিক প্রভাব ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের নিজেদের মধ্যেও পেশাগত সততা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।  

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করবেন। বিশেষ করে জনকল্যাণমূলক কাজে সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। এসব বার্তা তাদের মাধ্যমে সরাসরি দেশের তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। আর তা সরকারের অনুকূলে অনেক সুফল বয়ে আনবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, “সরকারের নীতি, উন্নয়ন কর্মসূচি এবং মাঠ প্রশাসনের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা, নির্দেশনা গ্রহণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিবছর ডিসি সম্মেলন আয়োজন করা হয়। গতবার তিন দিনের হলেও এবার হয়েছে চারদিন।”