বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

বুধ গ্রহে বাংলাদেশের শিল্পাচার্যের নাম

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। দেশের আধুনিক শিল্পকলার পথিকৃৎ। তাঁর আঁকা চিত্রকর্ম সিরিজ ‘দুর্ভিক্ষ’ পৃথিবীখ্যাত। কিন্তু দেশবরেণ্য এই শিল্পীর নাম যে পৃথিবীর গণ্ডি পেরিয়ে ভিনগ্রহেও পৌঁছে গেছে তা অনেকেরই অজানা।

২০০৯ সালে বুধ গ্রহের একটি জ্বালামুখের নামকরণ করা হয় জয়নুল আবেদিনের নামে। সৌরজগতের প্রথম এবং সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ বুধ। আজ থেকে ১১ বছর আগে এমন একটি গ্রহের জ্বালামুখের নাম জয়নুল আবেদিনের নামে রাখা হলেও বিষয়টি সম্পর্কে এখনো অনেকেরই জানা নেই। জয়নুল আবেদিনকে ২০০৯ সালের ৯ জুলাই এভাবে সম্মান জানায় ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন (আইএইউ)। বুধ গ্রহের একটি জ্বালামুখের নামকরণ করা হয় ‘আবেদিন ক্র্যাটার’ বা ‘আবেদিন জ্বালামুখ’। এই জ্বালামুখের ব্যাস ১১৬ কিলোমিটার এবং ভিত্তি বেশ মসৃণ।

পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন গ্রহের গর্ত ও জ্বালামুখের নামকরণের রীতি ১৯১৯ সালে প্রচলন করে আইএইউ। প্রথম দিকে কেবল সায়েন্স ফিকশন লেখক আর বিজ্ঞানীদের নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এই রীতি। যেমন চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহের গর্ত ও জ্বালামুখগুলো সায়েন্স ফিকশন লেখক এবং বিজ্ঞানীদের নামেই রাখা। কিন্তু পরে নীতিমালা বর্ধিত করে আইএইউ। তারা সিদ্ধান্ত নেয়, যারা মানবসভ্যতার মানবিক বোধ ও উপলব্ধিকে গভীরতর করেছেন, সেসব শিল্পী-সাহিত্যিকের নামেও গ্রহের গর্ত বা জ্বালামুখের নামকরণ করা হবে। বিশেষ করে বুধ গ্রহের জ্বালামুখগুলোর নাম রাখা হবে বিখ্যাত শিল্পী ও সাহিত্যিকদের নামানুসারে।

আইএইউর নিয়ম অনুসারে, বুধ গ্রহের নতুন আবিষ্কৃত প্রতিটি খাদ ও জ্বালামুখের নাম এমন কোনো শিল্পী ও সাহিত্যিকের নামে হতে হবে, যিনি ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বিখ্যাত ছিলেন এবং সেগুলো আবিষ্কারের অন্তত ৩ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন।

বুধ গ্রহ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য ১৯৭৩ সালে ‘ম্যারিনার-১০’ নামে প্রথম মহাকাশযান পাঠায় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এরপর ২০০৪ সালে দ্বিতীয় অভিযান ‘মেসেঞ্জার’ পাঠানো হয়। ২০০৮ সালে মহাকাশযানটি বুধ গ্রহের পাশ দিয়ে উড়ে যায়। একে ‘ফ্লাইবাই’ বলা হয়। বুধকে ঘিরে প্রথম দুটি ফ্লাইবাইয়ের সময় যানটি গ্রহের উত্তরাঞ্চলের পৃষ্ঠে অনেক গর্ত ও আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ আবিষ্কার করে। তারই একটি আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখের নাম রাখা হয়েছে আমাদের শিল্পাচার্যের নামে। 

২০০৯ সালের ৯ জুলাই ১৬টি জ্বালামুখের নামকরণের তালিকা প্রকাশ করে আইএইউ। তালিকায় উঠে আসে ফ্রান্সের চিত্রশিল্পী আন্দ্রে ডেরেন, ঘানার সাহিত্যিক জো কলম্যান ডি গ্রাফট, মেক্সিকোর চিত্রশিল্পী মারিয়া ইজকিয়ারদো, আমেরিকার সাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিনের নাম। 

এখন পর্যন্ত বিশ্বের চার শতাধিক শিল্পী এবং সাহিত্যিকদের নামে জ্বালামুখ রয়েছে বুধ গ্রহে। বাংলাদেশ থেকে আছে শুধু জয়নুল আবেদিনের নাম। তিনি ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার কেন্দুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

     

ঢাকা/ফিরোজ/তারা