বিজ্ঞান-প্রযুক্তি

মহাকাশে নতুন ইতিহাস: ৫০ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ

দীর্ঘ ৫০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও চাঁদের কক্ষপথের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল মানুষ। বুধবার (১ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস ২’ মহাকাশ মিশনের সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছে। খবর আল-জাজিরার।

এই মিশনের মাধ্যমে গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো মানববাহী মহাকাশযান পৃথিবীর নিম্ন-কক্ষপথ অতিক্রম করে গভীর মহাকাশে প্রবেশ করল। নাসার এই মিশনটি চাঁদে পুনরায় মানুষ পাঠানোর এবং পরবর্তীতে মঙ্গল গ্রহে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনার একটি বড় পদক্ষেপ।

কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ৩২ তলা সমান উঁচু এই রকেটটি যখন উড্ডয়ন করে, তখন হাজার হাজার মানুষ এই দৃশ্য দেখার জন্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নাসার ঐতিহাসিক এই মিশনের চার ক্রু হলেন- নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন।

উৎক্ষেপণের আগের কয়েক ঘণ্টা ছিল চরম উত্তেজনার। রকেটে সাত লাখ গ্যালন তরল হাইড্রোজেন জ্বালানি ভরার সময় প্রকৌশলীরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন, কারণ এর আগে কারিগরি ত্রুটির কারণে মিশনটি কয়েক দফা পিছিয়ে গিয়েছিল। এছাড়া ওরিয়ন ক্যাপসুলের ব্যাটারি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় শেষ মুহূর্তে কিছু ছোটখাটো সমস্যা দেখা দিলেও নাসার দক্ষ প্রকৌশলীরা দ্রুত তা সমাধান করেন।

সফল উৎক্ষেপণের পর লঞ্চ ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আপনারা সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন নতুন প্রজন্মের আশা আর স্বপ্ন। গুড লাক আর্টেমিস ২!”

নাসা জানিয়েছে, এটি একটি ১০ দিনের মিশন। উড্ডয়নের পাঁচ মিনিট পরই কমান্ডার ওয়াইজম্যান মহাকাশযান থেকে অপূর্ব এক চন্দ্রোদয়ের দৃশ্য দেখে কন্ট্রোল রুমে জানান, তারা সঠিক পথেই এগোচ্ছেন। মিশনের প্রথম দুদিন নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করে মহাকাশযানের জীবনরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য কারিগরি দিকগুলো পরীক্ষা করবেন। এরপর একটি শক্তিশালী ‘ইঞ্জিন বার্ন’-এর মাধ্যমে তারা সরাসরি চাঁদের কক্ষপথের দিকে রওনা হবেন।

আর্টেমিস ২ মিশনটি সরাসরি চাঁদে অবতরণ করবে না। বরং এটি চাঁদের উল্টো পিঠ দিয়ে ঘুরে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসবে। এই যাত্রায় নভোচারীরা পৃথিবী থেকে যতোটা দূরে যাবেন, তা গত কয়েক দশকে কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়নি। সব ঠিক থাকলে মিশন শেষে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে এবং প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে।

নাসার বিজ্ঞান মিশন প্রধান নিকি ফক্স বলেন, “বর্তমান বিশ্বের অর্ধেক মানুষই তখন জন্মায়নি যখন অ্যাপোলো মিশনের নভোচারীরা শেষবার চাঁদে হেঁটেছিলেন। এটি এই প্রজন্মের জন্য তাদের নিজস্ব ‘অ্যাপোলো’ মিশন।”

আর্টেমিস ২-এর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই আগামীতে চাঁদের মাটিতে আবারও মানুষের পা এবং মঙ্গল গ্রহে অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।