ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের চতুর্থ অাসরের ষষ্ঠ ও ফাইনাল রাউন্ডে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন ও বিসিবি নর্থ জোনের মধ্যকার ম্যাচটি ড্র হয়েছে। তবে ড্রয়ের আগে শেষ দিনের শেষ সেশনে দারুণ এক সেঞ্চুরি করেছেন ওয়ালটনের মার্শাল আইয়ুব।
মিরপুরে বৃহস্পতিবার শেষ দিনের লাঞ্চ বিরতির সময় ৮ উইকেটে ২৯৩ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বিসিবি নর্থ জোন। ফলে দিনের বাকি দুই সেশনে ওয়ালটনের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৬৬ রান। লক্ষ্যে খেলতে নেমে মার্শালের সেঞ্চুরি, সৈকত আলী ও রকিবুল হাসানের ফিফটিতে ওয়ালটন ২ উইকেটে ২৫৭ রান তোলার পর ড্র মেনে নেয় দুই দল।
৩৬৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দিনের শুরুটা দারুণ হয় ওয়ালটনের। শামসুর রহমান ও সৈকত আলী ৭২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন। শামসুরের (৩৮) বিদায়ে ভাঙে এ জুটি। আর সৈকত ফিফটি তুলে নিয়ে দলীয় ১২৬ রানে ব্যক্তিগত ৫৭ রানে ফিরে যান।
এরপর তৃতীয় উইকেটে রকিবুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুতগতিতে রান তুলতে থাকেন মার্শাল। দুজনই তুলে নেন ফিফটি। মার্শাল ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করেন ৯৭ বলে। এর পরই ড্র মেনে নেয় দুই দল। ৯৮ বলে ১০ চার ও এক ছক্কায় ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন মার্শাল। রকিবুল অপরাজিত ছিলেন ৫৪ রানে। মার্শাল-রকিবুল জুটিতে ২০.৩ ওভারেই আসে ১৩১ রান।
এর আগে তৃতীয় দিনের ৩ উইকেটে ১৩৩ রান নিয়ে চতুর্থ ও শেষ দিনে ব্যাট করতে নামে নর্থ জোন। নাজমুল হোসেন শান্ত ৫০ ও জহুরুল ইসলাম শূন্য রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করেন। দলীয় ১৫৩ রানে শান্তকে (৫৫) সাজঘরে ফিরিয়ে দেন মোহাম্মদ শরীফ।
এরপর দলীয় ২১৬ রানে নাঈম ইসলামকে বিদায় করেন তানভীর হায়দার। ২০ রান করা নাঈম জাবিদ হোসেনের বলে স্টাম্পড হন। নিজের পরের ওভারে এসে নতুন ব্যাটসম্যান আরিফুল হককেও (৫) সাজঘরের পথ দেখান তানভীর।
দলীয় ২৫১ রানে ধীমান ঘোষকে (১৭) তানভীরের ক্যাচে পরিণত করেন শরীফউল্লাহ। দলীয় ২৭০ রানে সানজামুল ইসলামকে (১১) বোল্ড করেন তানভীর। এরপর ৮ উইকেটে ২৯৩ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে গিয়ে বিরতির পর আর ব্যাটিংয়ে নামেনি নর্থ জোন, ইনিংস ঘোষণা করে তারা।
৮৩ রানে অপরাজিত ছিলেন জহুরুল। ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন শাফাক আল জাবির। ওয়ালটনের পক্ষে তানভীর সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন ৬৬ রানের বিনিময়ে।
ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোন ও প্রাইম ব্যাংক সাউথ জোন
ফতুল্লায় ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোন ও প্রাইম ব্যাংক সাউথ জোনের মধ্যকার ম্যাচটিও ড্র হয়েছে। শেষ দিনে সেঞ্চুরি করেছেন সাউথ জোনের সোহাগ গাজী ও ইস্ট জোনের লিটন দাস। ২১ রান নিয়ে খেলতে নামা সোহাগ লাঞ্চের আগে প্রথম শ্রেনির ক্যারিয়ার সেরা ১৪৬ রান করে আউট হন। ১০২ রান নিয়ে খেলতে নামা মোসাদ্দেক হোসেন রানটা ১৫২ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান।
সাউথ জোন অলআউট হওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে ৬০১ রান করে। ১৫৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ইস্ট জোন বিনা উইকেটে ১৮৯ রান করার পরই ড্র মেনে নেয় দুই দল। ১০৩ রানে অপরাজিত ছিলেন লিটন দাস। ৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন ইরফান শুক্কুর।
ছয় রাউন্ড মিলে মোট ৬৭ পয়েন্ট (বিসিবির হিসাব অনুযায়ী) নিয়ে তালিকার শীর্ষে থেকে এবারের আসরের ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:বিসিবি নর্থ জোন প্রথম ইনিংস: ১১০ ওভারে ৩৭৮/১০ (ফরহাদ ১৩১, সানজামুল ৭০, ধীমান ৫৩*, জহুরুল ৩৮, জাবির ২৫; শরীফ ৬/১০৫, শহীদ ৩/৮৪, তানভীর ১/১০) ও দ্বিতীয় ইনিংস: ৭৩ ওভারে ২৯৩/৮ ডিক্লে. (জহুরুল ৮৩*, নাজমুল ৫৫, মাহমুদুল ২৯; তানভীর ৪/৬৬, শরীফ ২/৬৪)।
ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন প্রথম ইনিংস: ৯১.২ ওভারে ৩০৬/১০ (রকিবুল ৬৩, শুভাগত ৫১, মোশাররফ ৪৭, তানভীর ৩৫, মার্শাল ৩৪; আরিফুল ৩/৪৩, মাহমুদুল ৩/৫৩, শাফাক ৩/৫৫) ও দ্বিতীয় ইনিংস: ৫৪ ওভারে ২৫৭/২ (মার্শাল ১০১*, সৈকত ৫৭, রকিবুল ৫৪*, শামসুর ৩৮; ফরহাদ ১/৩৭, মাহমুদুল ১/৮২)।
ফল: ড্র।
ম্যাচসেরা: ফরহাদ হোসেন।
রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৭ মার্চ ২০১৬/পরাগ