খেলাধুলা

বিশ্বকাপ খেলোয়াড়দের তারকা বানায় : আশরাফুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সময় তার পক্ষে ছিল। কিন্তু নিজেই ধ্বংস করেছেন সব। জড়িয়েছিলেন স্পট ফিক্সিংয়ে। তাতেই সব ওলটপালট। জাতীয় দল থেকে তাইতো আশরাফুল এখন যোজন-যোজন দূরে। মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে ২০০৩ বিশ্বকাপ খেলেছিলেন আশরাফুল। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আশরাফুল আজ থাকতেও পারতেন বিশ্বকাপ দলে, খেলতে পারতেন নিজের পঞ্চম বিশ্বকাপ। কিন্তু সেই সুযোগটি নেই। ফিক্সিংয়ে নিষেধাজ্ঞা শেষে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে বলার মতো কোনো পারফরম্যান্সই করেননি আশরাফুল। সবশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগও কেটেছে বাজে। মোহামেডানের জার্সিতে নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন। তিনটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা থাকা এ ক্রিকেটার মনে করেন, এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা কঠিন হবে ঠিকই কিন্তু বাংলাদেশের যে দল তাতে নক আউট খেলার সামর্থ্য রাখে। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ নিয়ে আজ মিরপুর শের-ই-বাংলায় কথা বলেছেন জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক। সেই কথোপোকথন রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল : বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সম্ভাবনা? মোহাম্মদ আশরাফুল: এটা নিয়ে আমরা পাঁচ নম্বর বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। বিশ্বকাপের হিসেবে আমি বলব যে এটা আমাদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল। পাঁচ জন ক্রিকেটার আছেন যারা ১২ বছরের ওপরে খেলছেন। এবারের ফরম্যাট একটু ভিন্ন। শেষ তিনটা বিশ্বকাপে আমরা কিন্তু সফল, আমরা তিনটা করে জয় পেয়েছিলাম। কিন্তু এবারে যদি সেমিফাইনালে যেতে হয়, আমাদের কমপক্ষে ৫-৬টা ম্যাচ জিততে হবে। ওইদিক থেকে চিন্তা করলে অভিজ্ঞ দল, কিন্তু সেমিফাইনাল খেলা একটু কঠিন হয়ে যাবে। কন্ডিশন বিবেচনা করলে, আমাদের বেশিরভাগ বোলাররা কিন্তু একটু ইনজুরির সমস্যায় আছে। যেই ধরনের উইকেটে খেলা হবে সেখানে আসলে ভালো বোলিং না করলে ম্যাচ জেতা কঠিন হবে। টিম হিসেবে বেস্ট টিম, তবে ফলাফল গত তিন বিশ্বকাপের মতন হওয়া কঠিন হবে। বোলিংয়ে কি আমরা পিছিয়ে? মোহাম্মদ আশরাফুল : যেই ধরনের উইকেটে খেলা হবে এবং আমাদের বোলারদের যেই গতি, এই জায়গায় মনে হয় আমরা একটু পিছিয়ে থাকব। আমাদের মেক্সিমাম বোলারই, শুধু রুবেল  ১৪০ এ বল করতে পারে, বাকিরা ১৩০-১৩৫ এইরকম। তারপরও দেড় মাস সময় আছে। আমাদের একটা অ্যাডভান্টেজ থাকবে যে মাশরাফি অধিনায়ক। কারণ সে বেস্ট ক্যাপ্টেন। ভালো একজন নেতা থাকলে এইসব ছোটখাটো জিনিসগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে। সিনিয়ররা যদি তাদের সেরাটা দিতে পারে এবং জুনিয়ররা যদি ফেরারলেস ক্রিকেট খেলতে পারে, তাহলে ভালো কিছু আশা করতে পারি। কিন্তু ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করলে একটু ডিফিকাল্ট। ওই ধরনের কন্ডিশনে আমাদের থেকে বাকি দলগুলো একটু বেটার টিম। স্কোয়াডের ফাঁকফোকর ও শক্তি? মোহাম্মদ আশরাফুল: আমাদের শক্তির জায়গা আমি মনে করি ব্যাটিং। মুশফিক, সাকিব, তামিম, মাহমুদউল্লাহ... মাহমুদউল্লাহ বাদে বাকিরা কিন্তু এটা নিয়ে চারটা বিশ্বকাপ খেলবে। এবং ওরা কিন্তু সেরা সময়ে আছে। এই একটা সুবিধা। ওরা যদি সেরাটা দিতে পারে...ওদের দিনে ওরা একাই ম্যাচ জেতাতে পারে। ওরা যদি সেরাটা দিতে পারে বিভিন্ন দিনে এবং বাকিরা যদি অবদান রাখতে পারে, তাহলে আমি মনে করি যে কোনো দলের বিপক্ষে আমরা জিততে পারব। আর বোলিংয়ে, নিউজিল্যান্ডে আমাদের বোলাররা ওতটা ভালো করতে পারেনি। আবার ইনজুরির কারণে সবাই শতভাগ ফিট না। এদিক দিয়ে যদি একটু কাটিয়ে উঠতে পারি, বোলিং ইউনিটটা যদি একসাথে ভালো করে, মাশরাফির লিডারশিপটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে এখানে। সে বোলারদের নিয়ে সুন্দরভাবে হ্যান্ডেল করতে পারলে আমরা ভালো করব। স্পিন অ্যাটাক কি অভিজ্ঞ? মোহাম্মদ আশরাফুল: যেই দুজন আছে, সাকিব ও মিরাজ। দুইজনই আমাদের হোম কন্ডিশনে ভালো পারফর্মেন্স করে যাচ্ছে। এখন ট্রু ব্যাটিং উইকেটে আমাদের বোলাররা কেমন করে সেটা দেখার বিষয়। নিউজিল্যান্ডে দেখেছি ব্যাটিং উইকেট ছিল, সেখানে স্পিন বোলারদের ভেরিয়েশন থাকলে কঠিন হয়ে যায়। যেটা রশিদ, মুজিব, কুলদিপ, চাহালদের আছে, ভেরিয়েশন আছে বলেই কিন্তু সারভাইভ করছে। ভালো ব্যাটিং উইকেটে যদি স্পিন করাতে পারে তাহলে কিন্তু ডেঞ্জারাস। আপনি যদি স্পিন করাতে না পারেন তাহলে কঠিন হয়ে যায়। সাত নতুন প্লেয়ার আমাদের। এটা কি বাড়তি ঝুঁকি নিলাম আমরা? মোহাম্মদ আশরাফুল: বিশ্বকাপ আসলে প্লেয়ারদের স্টার বানায়। এখানে যদি আপনি ভালো খেলতে পারেন দেশের জন্য নাম হবে নিজের জন্য নাম হবে। যেই ৭ জনের নাম হচ্ছে ওরা কিন্তু অলরেডি বাংলাদেশের জন্য সুপার স্টার। ওরা কিন্তু অলরেডি প্রুভেন যে এই লেভেলে পারফর্ম করেছে। এখন জাস্ট আরেকটা স্টেপ, যেখানে পুরো বিশ্ব ক্রিকেট ফলো করবে বাংলাদেশকে এবং এই প্লেয়ারগুলোকে। এই প্লেয়ারদের জন্য শুভ কামনা রইল। ওরা যেন ফেরারলেস ক্রিকেট খেলে এটাই আশা থাকবে। উইকেটগুলো খুব চমৎকার থাকবে ব্যাটিংয়ের জন্য। যারাই সুযোগ পাবে যেন বড় বড় ইনিংস খেলে। দীর্ঘ সফরে কি হোমসিকনেস কাজ করবে? মোহাম্মদ আশরাফুল: আয়ারল্যান্ড সিরিজের পর মনে হয় ৮-১০ দিনের গ্যাপ আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ওই সময়টা যদি আসতে পারত, তাহলে ভালো হত। এমনি এই বিশ্বকাপে সবার সাথে সবাই খেলবে। নয়টা ম্যাচ, দেড় মাসের ট্যুর। ওয়েদারের সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য হয়তো থাকতে হবে আয়ারল্যান্ড সিরিজের পর। কিন্তু আসতে পারলে মনে হয় ভালো হত। আমাদের মধ্যে এটা আছে। লম্বা সময় দেশের বাইরে, শেষের দিকে প্রভাব ফেলে। কাকে কাকে হারাতে পারবে বলে বিশ্বাস আপনার? মোহাম্মদ আশরাফুল: যদি সেমিফাইনাল খেলতে হয় তাহলে সবাই আমরা ধরে নিচ্ছি যে, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইডিজ, নিউজিল্যান্ড এবং সাউথ আফ্রিকা থেকে যেকোনো একটা দলকে হয়তো আমাদের হারাতে হবে।  সবগুলো টিমের সাথেই আমাদের জেতা সম্ভব। কিন্তু কন্ডিশন অনুযায়ী একটু টাফ হবে। ইংল্যান্ডে খেলতে যাবেন? মোহাম্মদ আশরাফুল: এই বছর আমি কেন্ট প্রিমিয়ার লিগ খেলতে যাচ্ছি ব্ল্যাকহেলথ সিসির হয়ে। সেখানে সাড়ে চার মাসের ট্যুর।  ওদের সিজন শুরু হবে। পুরো সিজনই খেলব। রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৭ এপ্রিল ২০১৯/ইয়াসিন/আমিনুল