ক্রীড়া প্রতিবেদক : দীর্ঘ ২১ মিনিটের সংবাদ সম্মেলন মুশফিকুর রহিমের। পুরো সংবাদ সম্মেলন জুড়েই ছিল বিশ্বকাপ। নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় মুশফিক। ২০০৭ সালে তার বিশ্বকাপ অভিষেক। এক যুগ ধরে বাংলাদেশ দলকে নিজের সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন উইকেটরক্ষক এ ব্যাটসম্যান। তার মতে এবারের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দলের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের টুর্নামেন্ট। শেষ চার বছরে বাংলাদেশ ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলছে তা প্রমাণের মঞ্চ বিশ্বকাপ। তাইতো নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে চান মুশফিক। মিরপুর শের-ই-বাংলায় আজ দুই সেশনে সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। সাকিব বাদে অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন সবাই। সাকিব দলের সঙ্গে যোগ দেবেন সোমবার। প্রথম সেশনে মুশফিক কিপিং অনুশীলন করেছেন পুরোটা সময়। দ্বিতীয় সেশনে করেছেন ব্যাটিং। বেলা সাড়ে বারোটায় মিরপুরের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে আসেন মুশফিক। তার কথোপোকথনের চুম্বক অংশ রাইজিংবিডির পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল : আপনার চতুর্থ বিশ্বকাপ মুশফিকুর রহিম: শুধু বিশ্বকাপ না, বাংলাদেশের হয়ে আপনি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবেন, একটা টুর্নামেন্ট খেলবেন এটা যেকোনো ক্রিকেটারের জন্য গর্ব ও সম্মানের বিষয়। বিশ্বকাপ তো অবশ্যই অনেক বড় মঞ্চ। আমরা তিন-চারজন আছি যারা চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। আমাদের ইচ্ছে আছে এটাকে স্মরণীয় করে রাখার ও ইচ্ছে আছে শেষ পর্যন্ত যাওয়ার। আমার মনে হয় এটা অসাধ্য কিছুই না। হয়তো বা অনেক কঠিন একটা কাজ। তবে যে কোনো কাজই সহজে অর্জিত হলে সেটার মজাটা আসলে থাকে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের যথেষ্ট সামর্থ্য আছে নকআউট পর্বে যাওয়ার। আর নকআউট পর্বে গেলে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। আমাদের সামনে আয়ারল্যান্ড সিরিজটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ডের পর আমাদের অনেকে ম্যাচে ছিল। কিন্তু গ্রুপ হয়ে আসা হয়নি। এগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আয়ারল্যান্ড সিরিজ থেকেই সেই ইতিবাচক ছন্দটা ধরতে হবে। বাড়তি চাপ, বাড়তি প্রত্যাশা মুশফিকুর রহিম: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি খেলাতেই কিন্তু চাপ থাকে, প্রত্যাশা থাকে। কারণ আপনি একটা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। আপনি চাইলেই বলতে পারবেন না একদিন খেলব, আরেকদিন খেলব না। এটা অনেক গর্ব ও সম্মানের ব্যাপার। এটা আমি সব সময় অনুভব করি। এটাই কি বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী বিশ্বকাপ দল… মুশফিকুর রহিম: অভিজ্ঞতার কথা বললে বলব যে, হ্যাঁ অবশ্যই শক্তিশালী দল। হয়তো বা ওইরকম না হলেও আমার কাছে মনে হয় অন্যতম বড় দল। গত কয়েক বছরে খুব কাছে গিয়েও আমরা হেরে গিয়েছি। এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা হয়তো বড় কিছু আমাদের জন্য রেখে দিয়েছেন। বড় সিরিজে ফিজিক্যালি ও মেন্টালি ফিট থাকা গুরুত্বপূর্ণ… মুশফিকুর রহিম: ফিটনেস অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা প্রথম যে ওয়ার্ল্ড কাপ খেলি ২০০৭ সাল, তখন দুই মাস ওয়েস্ট ইন্ডিজে ছিলাম। এটাও দীর্ঘ টুর্নামেন্ট। অনেকে ভাবতে পারে লম্বা সিরিজে ফিটনেস তেমন গুরুত্বপূর্ন না, আসলে তা নয়। এটা গুরুত্বপূর্ণ। ম্যানেজমেন্ট আমাদের টেক কেয়ার করছে। পরিবার নেওয়ার সুযোগ আছে। যা আমাদের রিলাক্স থাকতে সহায়তা করবে। অনেক চাপের ম্যাচের সময় রিলাক্স থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। দিনশেষে মাঠে আমাদের ভালো খেলতে হবে। কোচরা সেভাবে গাইডলাইন দিচ্ছেন। ভক্ত ও সমর্থকদের জন্য কোনো কথা… মুশফিকুর রহিম: আমরা বিশ্বাস করি যে আমরা জেতার জন্য যাচ্ছি; শুধু অংশগ্রহণের জন্য নয়। এটা আমরা যেভাবে বিশ্বাস করি, আশা করি আপনারাও তা করবেন । আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের পর বিশ্বকাপ, অনেক খেলা। ঘুরিয়ে-ঘুরিয়ে খেলানো হবে নাকি ত্রিদেশীয় সিরিজে? মুশফিকুর রহিম: এটা টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। আমরা আয়ারল্যান্ডে পাঁচটা ম্যাচ, ফাইনালসহ। ওখানে আমি কতো রান করি, বা আমার উপর কতোটা চাপ আসছে সেটার উপর নির্ভর করবে। আমাদের উপর যাতে শারীরিক বা মানসিক অবসাদ ভর না করে এভাবে হয়তো রোটেট করে খেলানো হতে পারে। রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৮ এপ্রিল ২০১৯/ইয়াসিন/আমিনুল