ক্রীড়া প্রতিবেদক: বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতার স্বপ্ন দীর্ঘ দিন ধরেই দেখে আসছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এবার পূরণের পালা! পুরনো স্বপ্ন এবার নতুন করে দেখা হয়েছে অনেক আগেই। সেই স্বপ্ন পূরণে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অনুশীলনে নামা হয়েছে দীর্ঘদিন হলো। নিবিড় অনুশীলন। ঘাম-ঝরানো পরিশ্রম। হাসি-ঠাট্টা আর গল্প-গুজব তো লেগেই ছিল। হাসিখুশি পরিবারটি শিরোপার স্বপ্ন পূরণে যাত্রা শুরু হলো আজ। এমিরেটস এয়ারল্যাইন্সের সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের বিমানে আয়ারল্যান্ড গেল বাংলাদেশ দল। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর ইংল্যান্ড যাবে দ্বাদশ বিশ্বকাপে অংশ নিতে। দশ দলের বিশ্বকাপ হবে লিগ পদ্ধতিতে। ফাইনালে উঠলে প্রায় ৭৫ দিনের জন্য দেশের বাইরে থাকতে হবে ক্রিকেটারদের। নিকট অতীতে এমন লম্বা সফর করেনি দল। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে সবথেকে অভিজ্ঞ দল নিয়ে ইংল্যান্ড গেল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ- এ ‘পঞ্চপাণ্ডব’ একসঙ্গে খেলছেন দীর্ঘদিন ধরে। রুবেল, সৌম্য, লিটন, মুস্তাফিজ, মিরাজরা তো পরীক্ষিত পারফরমার। দীর্ঘদিন ধরেই এ দলটা খেলছে একসঙ্গে। পারস্পরিক বোঝাপড়াটা ভালো সকলের। ড্রেসিং রুমে তাদের জমাট সম্পর্ক। দেশকে ভালো কিছু দেওয়ার এটাই সেরা মঞ্চ বলে মনে করছেন নিজেরাও। অধিনায়ক মাশরাফিও বিশ্বাস করেন এ দলের সামর্থ্য আছে দেশকে শিরোপা উপহার দেওয়ার। কঠিন তবে অসম্ভব নয়। এমন কঠিন কাজটাই করতে বুক ভরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে উড়াল দিল স্বপ্ন সারথিরা। শুরুতে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিবে বাংলাদেশ দল। স্বাগতিক দলের সাথে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর বিশ্বকাপের জন্য লন্ডন উড়ে যাবে দল। সেখানে চলবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি। আয়ারল্যান্ড সফর ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরুর ফাঁকে দেশে আসবেন মাশরাফি। ১৮ তারিখ তার দেশে আসর কথা রয়েছে। ২০ তারিখ আবার ফিরে যাবেন। তামিমও আয়ারল্যান্ড থেকে যাবেন দুবাইয়ে। দলের সঙ্গে যোগ দেবেন ২০ মে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী বাকিরা সবাই থাকবেন একসঙ্গে। ১৭ মে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের পর বাংলাদেশ দল যাবে ইংল্যান্ডে। সেখানে দুদিনের বিশ্রামের পর ২০ মে থেকে শুরু হবে অনুশীলন। ৩০ মে বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। ২ জুন বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকা বিপক্ষে। এর আগে ২৬ ও ২৮ মে পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে মাশরাফির দল। এবার নিয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাবেন মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক ও তামিম। ২০০৩ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন মাশরাফি। ইনজুরির কারণে ২০১১ সালে খেলা হয়নি তার। ২০০৭ থেকে নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলে আসছেন তামিম, মুশফিক, সাকিব। মাহমুদউল্লাহ ও রুবেল হোসেন ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলেছেন। সৌম্য সরকার ও সাব্বির খেলেছেন ২০১৫ বিশ্বকাপ। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন সাত ক্রিকেটার। প্রসঙ্গত, এবারই শেষ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন মাশরাফি। বিশ্বকাপের স্কোয়াড: তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাশ, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিথুন, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ রাহী ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ত্রিদেশীয় সিরিজের স্কোয়াড: তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাশ, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিথুন, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ রাহী, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাঈম হাসান, ইয়াসির আলী রাব্বী, ফরহাদ রেজা ও তাসকিন আহমেদ। রাইজিংবিডি/ঢাকা/১ মে ২০১৯/ইয়াসিন