শুরু হয়েছে বহুল আলোচিত বাংলাদেশ টাইগার্সের অনুশীলন। বগুড়ার শহিদ চান্দু স্টেডিয়ামে রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে মুমিনুল হক-ইমরুল কায়েসসহ ২৩ ক্রিকেটারদের নিয়ে শুরু হয় এই ক্যাম্প। যখন ক্যাম্প থাকবে না তখনও এই দলের ক্রিকেটাররা কোচিং স্টাফদের সহায়তা পাবেন, সার্বক্ষণিক নজরে থাকবেন।
ক্যাম্পের প্রথম দিনই গণমাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন বাংলাদেশ টাইগার্সের চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন যখন ক্যাম্প চলবে না, ক্রিকেটাররা টুর্নামেন্টে ব্যস্ত থাকবেন তখনও কোচরা তাদের নজরে রাখবে।
কাজী ইনাম বলেন, ‘মার্চ মাসের ১৫ তারিখ আমাদের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শুরু হবে, তখন সকলে এখানে খেলবে। আমাদের এখানে ৮ জন লোকাল কোচ জড়িত আছেন, তারা সবাই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বিভিন্ন দলের সঙ্গে কোচিং করে। আমরা একটা রোস্টার করে দেব। সেই কোচরা আমাদের এখানে (বাংলাদেশ টাইগার্স) যে সকল ক্রিকেটার জড়িত আছে, তাদের যে কাজগুলো করা হচ্ছে, তাদের যে ফোকাসটা করা হচ্ছে, পেসারদের জন্য ডেথ বোলিং, শর্ট ফর্ম্যাটের জন্য পাওয়ার হিটিংয়ের কাজ করছে, তাদের সাথে ওই সময় মনিটরিংয়ে থাকবে। তাদের ফিজিক্যাল, ফিটনেস ট্রেনিং ঠিকমতো হচ্ছে কী না এ গুলো মনিটরিং করবে।’
বাংলাদেশ টাইগার্স কোচিং প্যানেলের নেতৃত্বে আছেন মিজানুর রহমান বাবুল। ফিল্ডিং কোচ ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স ও কুকি প্যাটেল, বোলিং কোচ চম্পাকা রামানায়েক, স্পিন কোচ মো. সোহেল, ব্যাটিং কোচ আফতাব আহমেদ ও আশিক মজুমদার। পেস বোলিং কোচ হিসেবে আছেন তালহা জুবায়ের ও নাজমুল হাসান। কিপিং কোচ এবং ভিডিও অ্যানালিস্ট হিসেবে আছেন নাসির আহমেদ নাসু। আর ট্রেনার হিসেবে আছেন ইয়াকুব চৌধুরী। তারা সকলেই ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের নজরে রাখবেন সব সময়।
জাতীয় দলের ছায়া দল হিসেবে খ্যাতি পাওয়া বাংলাদেশ টাইগার্সের ক্যাম্পে মূলত ক্রিকেটারদের জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত করা হবে।
কাজী ইনাম বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেট সিজন যেটা চলে এনসিএল, বিসিএল, বিপিএল, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ সে সময় খেলোয়াড়রা অনুশীলনের মধ্যে থাকে। এর বাইরে অফ সিজনে তাদের একটা অনুশীলন দরকার, সে কারণে আমাদের প্রধান চিন্তাটা ছিল। আমাদের জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড় আছে তারা অনেকসময় একটা ফরম্যাট খেলে আরেকটা খেলে না। এখন যে রকম ২৬ তারিখ আমাদের প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে, আফগানিস্তান সিরিজ চলছে, সেখানে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির ক্রিকেটাররা খেলছে। কিন্তু আমাদের টেস্ট টিমের ৮ থেকে ১০ জন এই ট্যুরের মধ্যে নেই। সামনেই তারা দক্ষিণ আফ্রিকা যাবে, এরকম ক্রিকেটারদের নিয়ে এবং সম্প্রতি যারা ভালো করেছে, ঘরোয়া ক্রিকেটে, যারা সামনে সুযোগ পাবে, যেমন ধরেন মুনিম শাহরিয়ার বিপিএলে ভালো খেলেছে জাতীয় দলে সরাসরি চলে গিয়েছে, এরকম যারা পারফর্ম করে তাদের একটা সুযোগ দরকার যাতে তারা সঠিক কোচদের অধীনে থেকে জাতীয় দলের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত হতে পারে।’
আজ থেকে শুরু হওয়া এই ক্যাম্প চলবে ৭ মার্চ পর্যন্ত। এরপর জাতীয় দল যাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। সেখানে ওয়ানডে ও টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। ১৫ মার্চ থেকে শুরু হবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ।