খেলাধুলা

এবার কি লেখা হবে বোলিংয়ে প্রত্যাবর্তনের গল্প?

আগের ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরিকে সেঞ্চুরি বানিয়ে ছেড়েছিলেন লিটন দাস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা ওয়ানডেতে একশ হাঁকানোর দ্বারপ্রান্তে ছিলেন বাংলাদেশের ওপেনার। কিন্তু হলো না, স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ডিপে গুলবাদিন নাইবের ক্যাচ হলেন। ১৪ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়লেন লিটন। তারই প্রতিচ্ছবি বাংলাদেশের স্কোরেও, মাত্র ৮ রানের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি হলো না। ৪৬.৫ ওভারে ১৯২ রানে অলআউট স্বাগতিকরা।

চট্টগ্রামের পেসবান্ধব উইকেটে এদিন অপ্রত্যাশিতভাবে জ্বলে উঠলেন দুই স্পিনার রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবী। বোলাররা পেয়েছেন সাত উইকেট, যার মধ্যে পাঁচটিই তাদের দখলে। বাকি তিনটি রান আউট।

একপ্রান্ত আগলে রেখে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পথে ছুটতে থাকা লিটনকে ফিরিয়ে নবী উইকেটের খাতা খোলেন। ১১৩ বলে ৭ চারে ৮৬ রান করেন তিনি। প্রথম ম্যাচের জয়ের নায়ক আফিফকেও (৫) ফেরান এই স্পিনার।

৪৩ রানে প্রথম উইকেট হারানো বাংলাদেশ লিটন ও সাকিবের জুটিতে একশ পার করে ম্যাচের হাল ধরেছিল। কিন্তু তারপরই শুরু হয় বিপদ। ১০৪ রানে ২ উইকেট পড়া বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১৭৬-৭। ৭২ রানের ব্যবধানে ৭ উইকেট হারায় দলটি। তামিম টানা তৃতীয় ম্যাচে ফজলহক ফারুকির শিকার, এবার বোল্ড হন ১১ রান করে।

সাকিব ৩০ রান করে ফিরে গেলে লিটনের পর কেবল মাহমুদউল্লাহ ছিলেন উজ্জ্বল। এই চার ব্যাটসম্যান বাদে কেউ দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি।

লিটনের আউটের পর স্বীকৃত দুই ব্যাটসম্যান আফিফ ও মেহেদী হাসান মিরাজের হাল ধরতে না পারার খেসারত দিলো বাংলাদেশ। শেষ দুই ব্যাটসম্যান শরিফুল ইসলাম (৭) ও মোস্তাফিজুর রহমান (১) আউট হন রান নিতে গিয়ে। মাহমুদউল্লাহ তখন অপরাজিত ২৯ রানে।

রশিদ সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন। নবীর পকেটে গেছে দুটি উইকেট।

প্রথম ওয়ানডেতে ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশ আফগানিস্তানকে হারায় ৪ উইকেটে। মেহেদী হাসান মিরাজ ও আফিফ হাসানের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতায় মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের গল্প লেখা হয় দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজও নিশ্চিত হলো এক ম্যাচ আগে। তারপরও শেষ ম্যাচ কিন্তু ছিল না নিয়ম রক্ষার। আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ সুপার লিগের অংশ হওয়ায় ১০ পয়েন্ট পাওয়া ছিল বাংলাদেশের জন্য আকাঙ্ক্ষিত। এবার বোলিংয়ে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নাটক লিখে আফগানিস্তানকে তারা হোয়াইটওয়াশ করতে পারে কি না সেটাই দেখার।