খেলাধুলা

ভাবনায়-পরিকল্পনায় আকাশ পাতাল তফাৎ!

অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে প্রথম পর্বে খেলতে হবে না। এ যেন রীতিমতো স্বস্তির বিষয়। আফগানিস্তান গতবারও প্রথম পর্বে খেলেনি। খেলবে না এবারো। দুই দলই র‌্যাংকিংয়ে সেরা আটের ভেতরে থাকায় সরাসরি খেলবে সুপার টুয়েলভে।

বিশ্বকাপের জন্য সাত মাসেরও বেশি সময় হাতে থাকলেও নিজেদের প্রস্তুত করতে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ নেই দুই দলের কারোরই। অক্টোবর-নভেম্বরে বিশ্বকাপের আগে দুই দল মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট এশিয়া কাপে অংশ নেবে। শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এই প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা সেপ্টেম্বরে।

এর বাইরে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের মাটিতে তিনটি করে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে এবং আফগানিস্তানের লড়াই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টির সিরিজে।

প্রস্তুতি, নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া, সেরা কম্বিনেশন ঠিক করা, সাইডবেঞ্চের ক্রিকেটারদের বাজিয়ে দেখা… এসবের খুব বেশি সময় নেই। তাইতো বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দিয়ে আফগানিস্তান পরীক্ষা নিয়েছে তরুণদের। আর বাংলাদেশ যেন ঠিক উল্টো। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর যে ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল প্রতিশ্রুতিশীল ও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে।

আফগানিস্তানের জন্য শনিবারের ম্যাচটি ছিল সিরিজ বাঁচানো। একটু এদিক-সেদিক হলেই ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ হাতছাড়া। কিন্তু এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে তরুণদের বাজিয়ে দেখেছেন নবী। ম্যাচ শেষে সেই কথাই বললেন আফগান অধিনায়ক।

নবী বলেছেন, ‘আমরা এই তরুণ ক্রিকেটারদের তৈরি করছি সামনের এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের জন্য। সে কারণেই আমরা কিছু সিনিয়রদের সঙ্গে বেশিরভাগ তরুণদের দলে নিয়েছি।’ মুজিব উর রহমান ও লেগ স্পিনার কায়েস আহমেদকে শেষ টি-টোয়েন্টিতে বিশ্রামে রেখেছিল দল। তাদের পরিবর্তে খেলানো হয় শারাফউদ্দিন আশরাফ ও উসমান ঘানিকে। সফরে তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি তরুণ পেসার ফজলহক ফারুকি।

বাঁহাতি পেসার ফারুকি দারুণভাবে নজর কেড়েছেন। দুই টি-টোয়েন্টিতে তার শিকার ৫ উইকেট। এর আগে তিন ওয়ানডেতে তার পকেটে গেছে ৬ উইকেট। বাঁহাতি পেসারকে নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত নবী, ‘ফারুকি তরুণ ছেলে। তাকে নিয়ে আমরা অনূর্ধ্ব-১৯ থেকেই কাজ করছি। এবং এখন সে খুব ভালো। দিনে দিনে উন্নতি করছে। আমরা তাকে ফাস্ট বোলার হিসেবে সর্বোচ্চ আত্মবিশ্বাসী করার চেষ্টা করছি। এবং সামনের ম্যাচগুলোর জন্য তরুণ বেঞ্চ তৈরি করার চেষ্টা করছি।’

ভিন্ন মেরুতে থাকা বাংলাদেশ শেষ টি-টোয়েন্টিতে ইয়াসির আলী রাব্বীকে একাদশের বাইরে রাখে। চোট থেকে ফেরা মুশফিকুর রহিমকে সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি খেলেন নিজের শততম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ইয়াসির টি-টোয়েন্টি ক্যাপ পেয়েছিলেন। শেষ দিকে নেমে ৭ বলে ৮ রান তুলে দলের চাহিদা পূরণ করতে পারেননি ঠিকই। কিন্তু এমন কিছুও করেননি যে তাকে একাদশ থেকে বাদ দিতে হবে।

তবে মন্থর ব্যাটিংয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়া নাঈম শেখ কীভাবে সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন তা মাথায় আসছে না অনেকেরই। তার কার্যকারিতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তবে বরাবরের মতো এবারো বাঁহাতি ওপেনার পাশে পেয়েছেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে। প্রধান কোচ মনেও করিয়ে দেন, টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে নাঈমই এখন বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যাটসম্যান। 

তিনি বলেন, ‘সব সময় সবাই রান করবে না। কেউ কেউ বাজে সময়ের মধ‍্য দিয়েও যাবে। নাঈমকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। সে টি-টোয়েন্টিতে আমাদের সর্বোচ্চ র‍্যাংকিংধারী ব‍্যাটসম‍্যান। দলে থাকাটা তার প্রাপ‍্য।’

বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও চান না কাউকে ‘টার্গেট’ করে বাদ দিয়ে দিতে, ‘আমাদের শুরুর দিকে একটি জায়গা নিয়ে ঝামেলা। শেষ দিকে সাত নম্বরে একজনকে নিয়ে ঝামেলা। এই দুই জায়গায় দুজনকে লাগবে যারা খেলাটা পাল্টে দিতে পারবে। কিন্তু সবাইকে পারফর্ম করতে হবে। সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। ওই একটা-দুইটা খেলোয়াড়কে টার্গেট করে তো লাভ নেই। আমরা বাকি যাদের নিচ্ছি, তাদের তো পারফর্ম করতে হবে।’

গতবার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সবচেয়ে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছিল। নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলেছিল। কিন্তু মূল মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। এবার সময়-সুযোগ দুটোই কম। প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি ম্যাচও নেই। কিন্তু নিজেদের ভাবনা, পরিকল্পনায় বিরাট পরিবর্তন না আনলে এবারো ভালো কিছুর প্রত্যাশা করা ভুল হবে!