বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের কোনো ট্রফি নেই। এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপ সব টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশের কোনো সাফল্য নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাদের হারানোর পর মেহেদি হাসান মিরাজ বললেন, এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে চান।
শনিবার (১৯ মার্চ) দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দেওয়া ভিডিও বার্তায় মিরাজ বলেন, ‘হ্যাঁ, দেখেন স্বপ্ন যদি বড় না থাকে তাহলে তো আগানো যায় না। আমাদের স্বপ্ন অনেক বড়। আমরা ভালো কিছু করতে চাই। দেশে যেমন সিরিজ জিতি বাইরেও আমরা সিরিজ জিততে চাই। আমরা এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’
‘আমাদের চিন্তা ভাবনাও অমন যেন বিশ্বকাপ জিততে পারি, এশিয়া কাপ জিততে পারি, দেশের বাইরে সিরিজ জিততে পারি। ওইভাবেই আমরা পরিকল্পনা করছি প্রসেস করছি। আমরা কীভাবে ভালো ক্রিকেট খেলে, ভালো খেলে জয় অর্জন করতে পারি’—আরও যোগ করেন মিরাজ।
বাংলাদেশ বরাবরই ওয়ানডেতে ভালো দল। আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য কোয়ার্টার ফাইনাল। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল। এ ছাড়া এশিয়া কাপে তিনবার ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের। তার মধ্যে দুবার ওয়ানডেতে আরেকবার টি-টোয়েন্টিতে।
এবার আইসিসি বিশ্বকাপ সুপার লিগে দারুণ করছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত শীর্ষে আছে তামিম ইকবালের দল। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এর আগে কখনো সাফল্য ছিল না। এবার সেঞ্চুরিয়নে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জয় পায় ৩৮ রানে। এর আগে এ বছরের শুরুতেই নিউ জিল্যান্ডকে তাদের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্টে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সবকিছু মিলিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে ফুটছে আত্মবিশ্বাসের রেণু।
মিরাজ মনে করেন দলের সবাই এক হয়ে পারফরম্যান্স করলে সাফল্য ধরা দেয়। ‘এক দুইজন ভালো করলে কিন্তু টিমের ভালো রেজাল্ট করা খুব কঠিন। বিশেষ করে প্রত্যেকটা ফরমেটেই। ওয়ানডে ফরমেটেও। আমাদের কাল যেটা হয়েছে আমরা টিম গেম খেলেছি। আমরা যখন টিমে গেম খেলি তখনই বাংলাদেশ জিতে যায়।’
ম্যাচের চিত্রে তাকালেও মিরাজের কথার সত্যতা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ তিন ফিফটিতে ৩১৪ রান করে। রান তাড়া করতে নেমে ২৭৬ রানে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। মিরাজ ৪, তাসকিন ৩ ও শরিফুল নেন ২ উইকেট।
মিরাজ বলেন, ‘কালকে ওভারঅল ব্যাটিংও খুব ভালো হয়েছে। আমাদের গেম প্ল্যান যেভাবে ছিল সেভাবেই খেলেছি। প্রত্যেকটি জিনিস প্রসেস অনুযায়ী খেলেছে। আমাদের টপ অর্ডার থেকে সবাই খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। সাকিব ভাই এবং রাব্বির যে জুটিটা ছিল এটা আমাদের ছন্দটা নিয়ে এসেছে। আমাদের বড় স্কোর করতে সাহায্য করেছে। লাস্টের দিকে যে ফিনিশিং হয়েছে আফিফ রান করেছে, রিয়াদ ভাই রান করেছে, আমিও যে ছোট স্কোর করেছি। এটা আমাদের টিমকে অনেক দূরে নিতে সাহায্য করেছে।’
‘আমি মনে করি ব্যাটাররা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে, ভালো একটা স্কোর এনে দিয়েছে, যেটা বোলারদের জন্য ডিফেন্ডেবল। ওয়ানডে ক্রিকেটে আমরা ব্যাটাররা যদি বড় একটা স্কোর দিতে পারি বোলারদের, তখন বোলাররা অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে সাহস নিয়ে বল করতে পারে এবং কালকে তাসকিন ভাই খুবই ভালো বল করেছেন। প্রথম স্পেলে যেভাবে বল করেছে দুটি উইকেট নিয়েছে, শরিফুলও খুব ভালো বোলিং করেছে আমাদের ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছে। মাঝখানে তো সবাই সাপোর্ট করেছে। সর্বোপরি আমাদের বোলাররা ভালো করেছে আমরা একটা টিম গেম খেলেছি’ যোগ করেন মিরাজ।
চলতি বছরই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ আছে। পরের বছর আছে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ কি দল হয়ে খেলে ট্রফি ঘরে তুলতে পারবে? সেটা অবশ্য সময়ই বলে দিবে।