জয়ের আশা ছাড়েনি বাংলাদেশ! চতুর্থ দিন শেষে এমন আশাই দেখিয়েছিলেন টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ। ড্রেসিংরুমের আবহও ছিল একইরকম। যে করেই হোক পঞ্চম দিন লড়াই করতে হবে। কিন্তু নিজেদের ভাবনা, আত্মবিশ্বাস মাঠের লড়াইয়ে মিলিয়ে গেল হতশ্রী ব্যাটিং পারফরম্যান্সে। সঙ্গে যোগ হলো ডারবানে সর্বনিম্ন রানে অলআউটের অস্বস্তিকর রেকর্ড।
ডারবানে পঞ্চম দিন মাত্র ৫৫ মিনিট খেলা হয়েছে। তাতেই তছনছ বাংলাদেশ। ২৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে ১১ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় অতিথিরা। হাতে ৭ উইকেট রেখে সোমবার আরও ২৬৩ রান তুলতে অভাবিত কিছু করতে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু কেশভ মহারাজের স্পিন বিষে নীল মুশফিক, লিটন, ইয়াসিররা। তার একেকটি ছোবলে স্রেফ অসহায় ব্যাটসম্যানরা।
২২ গজে যেন প্রতিযোগিতা লেগেছিল কে কার আগে সাজঘরে ফিরেবেন! ব্যাটিংয়ে মনোবল ছিল খুবই বাজে। তাতে শেষদিনে কোনো লড়াই করতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ৫৩ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচটা হেরেছে ২২০ রানে। যা ডারবানের কিংসমেডে সর্বনিম্ন দলীয় রান। এর আগে ভারত ১৯৯৬ সালে মাত্র ৬৬ রানে অলআউট হয়েছিল। সেটাও ছিল ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে।
মুশফিক ও শান্ত দিনের খেলা শুরু করেন। তাদের শুরুর ওপর নির্ভর করছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্স। বিশেষ করে ৭৮তম টেস্ট খেলা মুশফিক কিভাবে প্রতিপক্ষকে সামলে নেন সেদিকে নজর ছিল সবার। কিন্তু কেশভ মহারাজ শুরুতেই পথের কাঁটা দূর করেন। দিনের প্রথম ওভারেই এলবিডব্লিউ করে ফেরান শূন্য রানে।
এক ওভার পর তার শিকার লিটন। আলগা শটে উইকেট উপহার দিয়ে আসেন বাঁহাতি স্পিনারকে। তার উইকেট নিয়ে কেশভ ফাইফারের কোটা পূর্ণ করেন। প্রথম ইনিংসে নিজের ভুলে রান আউট হওয়া ইয়াসির এই ইনিংসে ব্যর্থ হয়েছেন। কেশভের বলের লাইনে ব্যাট নিতে পারেননি ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার স্টাম্প উপড়ে ফেলেন প্রোটিয়া স্পিনার। অপরপ্রান্তে হার্মার অবশ্য দর্শক হয়ে থাকেননি। মিরাজকে স্লিপে তালুবন্দি করান স্ট্রেইট এক ডেলিভারিতে।
পরীক্ষিত চার ব্যাটসম্যানই ফিরেছেন শূন্যরানে। তখন মনে হচ্ছিল টেস্টে সর্বনিম্ন ২৬ রানের লজ্জাটা হয়তো পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু নাজমুল হোসেন শান্তর ২৬ ও তাসকিনের ১৪ রানে সেই লজ্জা পায়নি বাংলাদেশ। কিন্তু তারা লড়াই করতে পারেনি। কেশভের শেষ দুই শিকার খালেদ ও তাসকিন। মাঝে শান্তকে স্ট্যাম্পড করেন হার্মার। ৩২ রানে ৭ উইকেট নিয়ে কেশভ বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার তছনছ করে ফেলেন। হার্মার ২১ রানে নেন ৩ উইকেট।
বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারের চিত্রটা ছিল ভয়াবহ। শান্ত ও তাসকিন বাদে কেউ-ই দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। সাদা পোশাকে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগে ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে ৪৩ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং পারফরম্যান্স খুবই বাজে হলেও প্রথম ইনিংসের পারফরম্যান্সই বড় প্রভাব ফেলেছে। ডারবানের অসমান উইকেটে ৬৯ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিকরা। সেই রানটাই বড় হয়ে যায় অতিথিদের জন্য। লড়াইয়ের মনোবল ঠিক থাকলেও ব্যবধান অনেক বেড়ে যাওয়ায় পিছিয়ে পড়ে মুমিনুলের দল। তাতে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আরেকটি লড়াইয়ে হারকে সঙ্গী করলেন তারা।
আগামী ৭ এপ্রিল জোহানেসবার্গে দুই দলের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে। এর আগে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিতে পারে কিনা মুমিনুলবাহিনী সেটাই দেখার।