খেলাধুলা

ম্যাথুজের আক্ষেপের দিনে বাংলাদেশের নায়ক নাঈম

দিনের শেষ বল আলতো টোকায় খেলে চোখেমুখে হাসির ঝিলিক মাহমুদুল হাসান জয়ের। অপরপ্রান্তে থাকা তামিম ইকবাল যেন পেলেন ফুরসত। উদ্বোধনী জুটি অক্ষত থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করলো। বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুম তখন করতালিতে মুখরিত।

শ্রীলঙ্কাকে ৪০০ এর নিচে আটকে রাখার পরিকল্পনায় সফল বাংলাদেশ। অতিথিরা আগে ব্যাট করতে নেমে স্কোরবোর্ডে তুলেছে ৩৯৭ রান। জবাবে তামিম ও জয়ের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে রান বিনা উইকেটে ৭৬। তামিম ৩৫ ও জয় ৩১ রানে অপরাজিত থেকে শেষ করেন দিনের খেলা।

নাঈম হাসান আগের দিনের ২ উইকেটের সঙ্গে আজ আরও ৪ উইকেট পেয়েছেন। ৬ উইকেটে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন ডানহাতি স্পিনার। সাকিব আল হাসান প্রথম দিনের ১টির সঙ্গে আজ পেয়েছেন আরও ২টি। তাতে অতিথিদের আটকে রাখা গেছে নাগালেই। তাইজুল, খালেদ, শরিফুলরা ২২ গজে হাত ঘুরালেও পাননি সাফল্য।

তবে পুরো দিন আলো কেড়ে নিয়েছিলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ১১৪ রানে দিন শুরু করে ডাবল সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান। দুই বছর আগে জিম্বাবুয়েতে পেয়েছিলেন প্রথম ডাবল। আজ চট্টগ্রামে সেই পথেই ছিলেন লঙ্কানদের সাবেক অধিনায়ক। কিন্তু নাঈম হাসানের বলে সাকিবের হাতে ম্যাথুজ যখন ক্যাচ দেন তখন তার রান ১৯৯! ক্রিকেট ইতিহাসের ১২তম খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯ রানে আউট হন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

৯ ঘণ্টা ৩৮ মিনিটের ম্যারাথন ইনিংস শেষ হয় অত্যন্ত বাজে এক বলে। তাতে কি? নাঈম সেখানেই পেয়ে যান ৬ উইকেট। ১৫ মাস পর দলে ফিরে ১০৫ রানে ৬ উইকেট পেয়েছেন চট্টগ্রামের এ তরুণ।

সোমবার সকালের সেশনে তার হাত ধরেই আসে সাফল্য। মধাহ্ন বিরতির ঠিক আগে তার এক ওভারে আউট দিনেশ চান্দিমাল (৬৬) ও নিরোশান ডিকাভেলা (০)। চান্দিমাল সুইস হিট (অনেকটাই রিভার্স সুইপের মতো) করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন। ডিকাভেলা নাঈমের সোজা বল মিস করে হন বোল্ড।

বিরতির পর সাকিবের কারিশমা। সকালের সেশনে ৭ ওভারে ১৪ রান দেওয়া সাকিব বিরতির পর দুই বলে ফেরান দুই ব্যাটসম্যানকে। রামেশ মেন্ডিসকে আর্ম ডেলিভারিতে বোল্ড করার পর লাসিথ এম্বুলডিনিয়াকে এলবিডব্লিউ করেন। শেষ উইকেটটি নিয়েছেন আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রিভিউ নিয়ে।

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একা হয়ে যান ম্যাথুজ। তবুও আপ্রাণ চেষ্টায় ডাবলের পথে তরতর করে এগিয়ে যান। কিন্তু ১ রানের আফসোসে পুড়তে হয় তাকে। ৩৯৭ বলে ১৯ চার ও ১ ছক্কায় ডানহাতি ব্যাটসম্যান নিজের ইনিংসটি সাজান। শ্রীলঙ্কার ইনিংস থামে ৩৯৭ রানে। আগের দিনের ২৫৮ রানের সঙ্গে আজ আরও ১৪৯ রান তুলে শেষ ৬ উইকেট হারায় অতিথিরা।

জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান দ্রুত রান করেন। তামিম, জয় দুইজনই ৫টি করে বাউন্ডারি হাঁকান। তাতে বাংলাদেশের রান লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে সাফল্য পাওয়ায় মুখে চড়া হাসি নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ।

দেখার বিষয়, তৃতীয় দিন সেই হাসি টিকে কিনা।