খেলাধুলা

মাহমুদউল্লাহ বিশ্বকাপে থাকবেন কিনা নিশ্চিত নন নাজমুল হাসানও

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে রাখা হবে কিনা তা নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই আলোচনা। টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন এই স্পিন অলরাউন্ডারের ইস্যুতে খোলামেলা কথা বললেও পাকাপাকি কিছু বলছিলেন না। দলের নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমন আগেভাগেই মুখে তালা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ইঙ্গিত দিলেন, বিশ্বকাপের স্কোয়াডে মাহমুদউল্লাহকে নাও দেখা যেতে পারে। তবে তিনি নিশ্চিত নন। একই সঙ্গে তিনি পথ দেখিয়ে বলেছেন, ‘মাহমুদউল্লাহ চাইলে তাকে মাঠ থেকে বিদায়ের ব্যবস্থা করে দেবে বিসিবি।’

টিম কম্বিনেশনের কারণে বিশ্বকাপের ১৫ জনের স্কোয়াডে সাবেক অধিনায়কের জায়গা অনিশ্চিত। সঙ্গে আরেকটি বড় ভাবনাও যুক্ত হয়েছে। শুধু অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিসিবি পরিকল্পনা করছে না। ২০২৪ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং যুক্তরাষ্ট্র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়েও চিন্তা করছে। সেই চিন্তা থেকেই মাহমুদউল্লাহকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট! টি-টোয়েন্টির টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরণ শ্রীরামের সঙ্গে আজ আলোচনায় বসে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছেন নাজমুল হাসান। কিন্তু বিসিবি সভাপতি এসব নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি নন।

মাহমুদউল্লাহর টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্সে অনেকদিন ধরেই ভাটার টান। এজন্য অধিনায়কত্বও হারিয়েছেন। দল থেকে বাদও পড়েছেন। আবার বিনা কারণে ঢুকেও গেছেন। খেলেছেন এশিয়া কাপ। যেখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২৭ বলে ২৫ করে আউট হন দলের অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২২ বলে ২৫ রান করেছেন। তাইতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে মাহমুদউল্লাহর জায়গা দোদুল্যমান।

বাংলাদেশ যে ভয়ডরহীন ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলতে চাচ্ছে সেখানে মাহমুদউল্লাহর নাম ভাবনায় আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে বিসিবি সভাপতি বলেছেন,‘এখানে ইস্যুটা শুধুই মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে না। আমরা এখন যা করছি তা এই বিশ্বকাপের জন্য নয়। এই বিশ্বকাপকে টার্গেট করে কিছু করলে হবে না। আপনাকে সামনের বিশ্বকাপকে (২০২৪) টার্গেট করে কিছু করতে হবে। এমন কোনো কোচ নেই, এমন কোনো বোর্ড নেই যে আপনাকে রাতারাতি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট সব ঠিক করে দেবে। এতো দিন যা হয়েছে, হয়েছে। আপনাকে লং টার্মে চিন্তা করতে হবে।’

‘সামনের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য দল তৈরি করছি আমরা। এটার জন্য কিছু এক্সপেরিমেন্ট হবে, কিছু আপস অ্যান্ড ডাউন হবে। এজন্য আমাদেরকে মানিয়ে নিতে হবে। ওইটা যদি খারাপও হয় আমরা হতাশ হবো না। আমরা চাই ভালো হোক। ছয় বা সাত মাস বা এক বছর পর যদি স্ট্রং কোনো দল দাঁড়ায় যায় তাহলে তো ভালো…মাথায় থাকতে হবে সব কিছুই কিন্তু আমরা সামনের বিশ্বকাপের জন্য করছি।’

সেই ভাবনাতেও মাহমুদউল্লাহ টিকে যান কিনা এমন প্রশ্ন উঠছে। এবার নাজমুল হাসান সোজাসুজি উত্তর দিয়েছেন,‘এই মুহুর্তে আমার জন্য বলা কঠিন। কারণ হচ্ছে কি, কম্বিনেশনে ওরা কি চিন্তা করছে সেটা নিয়ে যতক্ষণ আমাকে না বলছে তাহলে তো বুঝতে পারছি না।’

মুশফিক এশিয়া কাপের পরপরই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ছেড়ে দিয়েছেন। তামিম অনেক আগেই এই ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন। তারা কেউই বিসিবিকে জানিয়ে আনুষ্ঠানিক অবসরে যাননি। বিসিবিও তাদের জন্য বড় আয়োজন করতে পারেনি। তবে মাহমুদউল্লাহর জন্য এই সুযোগ উন্মুক্ত। বিসিবি তাকে সম্মান দিয়ে বিদায় দিতে চায়।

নাজমুল হাসান যোগ করেছেন, ‘যদি ওকে রিটায়ার্ড করতে হয় এবং আমরা যদি ওকে জায়গা না দিতে পারি তাহলে, ওকে এই সুযোগ (মাঠ থেকে রিটায়ার্ড) নুন্যতম সম্মান তো দেয়া উচিত। কারণ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অবদান খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বহু ম্যাচ জিতিয়েছে আমাদের। মুশফিকও। মুশফিক অবসর নিয়েছে, আমাদের তো খারাপ লাগে। শেষ দিন পর্যন্ত বলেছি, মুশফিক আমাদের সেরা ব্যাটসম্যান।’

‘একেকটা ফরম্যাটে একেক জনের জায়গা হয় না টিম কম্বিনেশনের কারণে সেটা ভিন্ন বিষয়। ভবিষ্যৎ চিন্তা করলে হয়তো দুই বছর পর অনেককে পাবো না। নতুন দল তৈরি করতে চাচ্ছে সেটাও ভিন্ন ইস্যু। তবে খেলোয়াড়রা নিজেররা অবসরের ঘোষণা না দিয়ে যদি আমাদেরকে সুযোগ দেয়, আমরা তাদেরকে সম্মান জানিয়ে বিদায় দেব। সেটা যে কোনো ফরম্যাটে। সেই সুযোগটা তারা যেন আমাদেরকে দেয়।’