ডেথ বোলিং হাত খুলে রান দিয়ে ম্যাচ হাতছাড়া করার রেকর্ড বেশ সমৃদ্ধ রুবেল হোসেনের। সেই তালিকায় বৃহস্পতিবার যুক্ত হলো আরেকটি অধ্যায়। যেদিন এক ওভারে ২৩ রান দিয়ে শিরোপা হাতছাড়া করে আসেন ডানহাতি পেসার।
বিপিএলের ফাইনাল জিততে ২৪ বলে তখন কুমিল্লার ৫২ রান লাগত। সিলেট স্ট্রাইকার্স লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল। সিলেটের অধিনায়ক মাশরাফি নির্ভরযোগ্য বোলার রুবেলের হাতেই বল তুলে দেন। আগের ৩ ওভারে ১৬ রানে সুনীল নারিন ও লিটন দাশের উইকেট নেওয়ায় রুবেল ছিলেন সিলেটের সেরা বোলার। সঙ্গে রুবেল যে প্রান্ত থেকে বোলিং করছিলেন তার একপাশ ছিল ছোট।
অধিনায়কের আত্মবিশ্বাস ও নিজের সাহসে পিছু পা হননি রুবেল। কিন্তু জনসন চার্লস ২ চার ও ১ ছক্কায় এবং মঈন আলী ১ ছক্কায় এলোমেলো করে দেন তার শেষ ওভার। ২৩ রান বিলিয়ে রুবেল শিরোপাই হাতছাড়া করে দেন সিলেটের। পরের লক্ষ্য কুমিল্লা পেরিয়ে যায় অতি সহজেই।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অবধারিতভাবে রুবেলের করা ১৭তম ওভার নিয়ে প্রশ্ন উঠল। বিপিএলের পঞ্চশ শিরোপার খুব কাছে গিয়েও হাতছাড়া হওয়ায় বিষন্ন ছিলেন মাশরাফি। তবে রুবেলের ওই ওভার নিয়ে সিলেটের অধিনায়কের কোনো অভিযোগ নেই। বরং সতীর্থর পাশে থেকে তার প্রশংসাই করলেন।
‘ওই সময়ে ১৩ রান করে প্রতি ওভারে লাগত। যেটা কঠিন কিন্তু। ফাইনালের মতো ম্যাচে ৪ ওভারে ৫২ রান কিন্তু কঠিন। ওই সময়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাটা গুরুত্বপূর্ণ। একটা ছয়-চার ওই সময়ে হতে পারে। কিংবা দুইটাও হতে পারে। কামব্যাকটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করত না পারলে এই ধরণের বিষয় হতে পারে।’
‘আমি মনে করি রুবেলই আমাদেরকে ম্যাচে ফিরিয়েছে। একটা ওভার এদিক-ওদিক হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। ওখানে যেই বোলিং করবে এরকম একটা ওভার হলে ম্যাচটা বেরিয়ে যাবে। আমাদের দিনের সবচেয়ে সেরা বোলার ছিল রুবেলই। ওই সময়ে এমন একটা ছিল, হয় রুবেল না হয় থিসারা পেরেরা, না হয় সাকিব বোলিং করবে।’
‘আমি খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলাম সাকিব শেষ দিন ওভার দ্য উইকেট থেকে বোলিং করেছে, আজকেও ভালো বল করবে। কারণ বল গ্রিপ হচ্ছিল। এপাশ দিয়ে যেহেতু একটু ছোট সাইজ ছিল তাই সেরা বোলারকে দিয়ে বোলিং করানো ছাড়া কোনো উপায়ও ছিল না। শুধু রুবেল না যে কেউ আসলে ওই সময়ে ওরকম বোলিং করে তখন আলটিমেটলি ম্যাচে ফেরা কঠিন হয়ে যায়। যে কারো ক্ষেত্রেই হতে পারে।’
তবে এর আগেও একাধিকবার ডেথ ওভার ম্যাচ ডুবিয়েছেন রুবেল। জাতীয় দলের হয়ে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে এক ওভারে ২২ রান দিয়েছিলেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ম্যাচে মুত্তিয়া মুরালিধরন তার এক ওভারে ২০ রান তুলেছিলেন। এরকম ছোটবড় অনেক বোলিং ইনিংসে রুবেল অনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ হারিয়েছেন। পেশাদার ক্রিকেটে ১৫ বছর কাটিয়ে দেওয়া এ পেসারের ‘মেন্টাল ব্লক’ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মাশরাফি এবারও রুবেলের পক্ষেই থাকলেন, ‘এটা ডিপেন্ডস করে আসলে। সত্যি বলতে রুবেল কিন্তু আমাদের ম্যাচে ফিরিয়েছে…।’
মাশরাফি এ ম্যাচে শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসেছিলেন। যখন ৬ বলে দরকার ছিল ৩ রান। মাশরাফির নিজের বোলিংয়ে না আসার কারণ ইনজুরি,‘আগের দিন দুই ওভার করার পর তৃতীয় ওভার করার প্রয়োজন ছিল বলে করতে এসেছি। তৃতীয় ওভার করার সময় বুঝেছি ইনজুরি হবার সুযোগ আছে। তবুও দলের প্রয়োজনে এসেছিলাম। কিন্তু একেবারে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইনজুরি। আজকে উইকেটটা স্টিকি ছিল। হয়তো বা বোলিং করতে পারলে…ভালো খারাপের কথা তো কেউ বলতে পারবে না। করলে সুবিধা হতো আর কি।’