খেলাধুলা

উপমহাদেশের স্পিন স্বর্গে মাত্র দুই স্পিনার! অজিদের ‘আত্মঘাতী’ নাকি ‘মাস্টারস্ট্রোক’ পরিকল্পনা?

ভারত ও শ্রীলঙ্কার ঘূর্ণি উইকেটে যেখানে স্পিনাররাই তুরুপের তাস হওয়ার কথা, সেখানে অস্ট্রেলিয়া তাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে মাত্র দুইজন ‘স্পেশালিস্ট’ স্পিনার নিয়ে বিস্ময় জাগিয়েছে। বিশেষ করে অ্যাডাম জাম্পা ও ম্যাথু কুহনেম্যানকে রাখা হলেও, কুহনেম্যানের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে উইকেট মাত্র একটি! এমন এক পরিসংখ্যান নিয়ে অজিদের এই ‘স্পিন-তত্ত্ব’ এখন ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

কিন্তু কেন এই ঝুঁকি? এর পেছনে কি কোনো নিগূঢ় পরিকল্পনা কাজ করছে? চলুন খতিয়ে দেখা যাক অজিদের এই সাহসের রহস্য।

অস্ট্রেলিয়ার স্পিন-মেশিন: সংখ্যার চেয়ে গভীরতা বেশি খাতায়-কলমে স্পেশালিস্ট স্পিনার মাত্র দুইজন মনে হলেও, অস্ট্রেলিয়ার মূল শক্তি তাদের অলরাউন্ডারদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা স্পিন বৈচিত্র্য। অজি নির্বাচক প্যানেলের প্রধান জর্জ বেইলি এবং অধিনায়ক মিচেল মার্শ মূলত ‘হাইব্রিড’ স্পিন কৌশলে বিশ্বাস রাখছেন।

গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের অভিজ্ঞতা: ম্যাক্সওয়েল এখন আর কেবল পার্ট-টাইম বোলার নন। উপমহাদেশের কন্ডিশনে তিনি একজন পুরোদস্তুর অফ-স্পিনার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পাওয়ার-প্লেতে বল হাতে তার কার্যকারিতা অজিদের বোলিং আক্রমণে বাড়তি মাত্রা যোগ করে।

ম্যাথু শর্ট ও কুপার কনোলির অন্তর্ভুক্তি: স্কোয়াডে ম্যাথু শর্টের মতো অফ-স্পিনার এবং কুপার কনোলির মতো তরুণ বাঁহাতি স্পিনার আছেন। কনোলি বিগ ব্যাশে দুর্দান্ত পারফর্ম করে দলে জায়গা করে নিয়েছেন। অর্থাৎ, অজিদের বোলিং অপশনে জাম্পা-কুহনেম্যান ছাড়াও অন্তত ৩ জন কার্যকরী স্পিন অপশন থাকছে।

১ উইকেট পাওয়া কুহনেম্যানের ওপর কেন এত ভরসা? ম্যাথু কুহনেম্যানের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান খুব একটা উজ্জ্বল নয়। কিন্তু তার বাঁহাতি ‘অর্থোডক্স’ স্টাইল উপমহাদেশের মাটিতে অত্যন্ত ঘাতক হতে পারে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে গত টেস্ট সিরিজে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স নির্বাচকদের মুগ্ধ করেছে। তাদের ধারণা, শুকনো এবং টার্নিং উইকেটে কুহনেম্যানের নিখুঁত লাইন-লেন্থ ব্যাটারদের চেপে ধরতে সক্ষম হবে।

পেস-স্পিন ভারসাম্য ও ‘পাওয়ার গেম’: অস্ট্রেলিয়ার গেম-প্ল্যান হলো প্রতিপক্ষকে স্পিন দিয়ে ঘায়েল করার চেয়ে নিজেদের গতির বৈচিত্র্য দিয়ে কুপোকাত করা। প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক এবং জশ হ্যাজলউড; এই ত্রয়ী উপমহাদেশেও তাদের কাটার এবং স্লোয়ার ডেলিভারি দিয়ে উইকেট নিতে পারদর্শী।

তাছাড়া, অজিদের ব্যাটিং লাইনআপে যারা আছেন (মার্শ, হেড, ম্যাক্সওয়েল), তারা স্পিনের বিপক্ষে অত্যন্ত আগ্রাসী। অস্ট্রেলিয়ার দর্শন পরিষ্কার: ‘‘স্পিনার কম থাকলেও সমস্যা নেই, আমাদের ব্যাটাররা যদি প্রতিপক্ষের স্পিনারদের তুলোধুনো করতে পারে, তবে ম্যাচ আমাদের হাতেই থাকবে।’’

অস্ট্রেলিয়া এবার সংখ্যাতত্ত্বের চেয়ে ‘কন্ডিশন-স্পেশালিস্ট’ এবং ‘ইউটিলিটি’ খেলোয়াড়দের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। দুইজন মূল স্পিনারের পাশাপাশি ৪-৫ জন খণ্ডকালীন স্পিন অপশন রাখাটা আসলে কোনো ঝুঁকি নয়, বরং আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের একটি স্মার্ট কৌশল। ভারত-শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে এই ‘জুয়া’ অজিদের জন্য কতটা সফল হয়, তা দেখার জন্য এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

অস্ট্রেলিয়ার স্পিন আক্রমণের মূল কারিগররা:

খেলোয়াড় ধরন ভূমিকা অ্যাডাম জাম্পা লেগ-ব্রেক মূল উইকেট শিকারি ম্যাথু কুহনেম্যান লেফট-আর্ম অর্থোডক্স রান আটকানো ও টার্ন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল অফ-ব্রেক পাওয়ার-প্লে ও মিডল ওভার কুপার কনোলি লেফট-আর্ম অর্থোডক্স সারপ্রাইজ এলিমেন্ট ম্যাথু শর্ট অফ-ব্রেক অতিরিক্ত অপশন