খেলাধুলা

রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচ সুপার ওভারে ফয়সালা

বিপিএলের দুই বিগ বাজেটের দলের মুখোমুখি লড়াইকে ঘিরে কিছুটা আলোচনা আগে থেকেই ছিল। কেন ছিল? সিলেটের ২২ গজে প্রমাণ দিল রংপুর রাইডার্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মাঠে কেউ কাউকে ছাড় দেয়নি। জিততে দেয়নি সহজেই। মূল ম্যাচ অমীমাংসিত থাকার পর সুপার ওভারে হয় ভাগ্য নির্ধারণ। তাতে শেষ হাসিটা হাসে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে রাজশাহী ৮ উইকেটে ১৫৯ রান করে। ভালো অবস্থানে থেকেও সেই রান তাড়া জিততে পারেনি রংপুর। ৬ উইকেটে তারা করে ১৫৯ রান। লড়াকু পুঁজি নিয়ে ম্যাচ সুপার ওভারে নিয়ে যায় রাজশাহী।

সুপার ওভারে লড়াইটা ঠিক জমেনি। রংপুর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ রানের বেশি করতে পারেনি। রিপন মন্ডলের করা ওভার থেকে কোনো বাউন্ডারি তারা আদায় করতে পারেনি। কাইল মায়ার্স ৩ বলে ১ রান করে বোল্ড হন। শেষ বলে খুশদিল শাহ রান আউট হন।  ৭ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে মোস্তাফিজুর রহমানের প্রথম বল সীমানায় পাঠান তানজিদ হাসান। পরের বলে নেন ২ রান। তৃতীয় বলে আবার ৪ মেরে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

এর আগে মূল ম্যাচে জবাব দিতে নেমে ৩ চারে লিটন ভালো শুরুর ইঙ্গিত দেন। কিন্তু ১৬ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। তানজিম হাসানের বলে মুশফিকুরের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান চতুর্থ ওভারে। সেখান থেকে দ্বিতীয় উইকেটে ১০০ রানের জুটি গড়েন তাওহীদ হৃদয় ও ডেভিড মালান।

মনে হচ্ছিল এ জুটিই রংপুরকে সহজেই জয়ের বন্দরে নিয়ে যাবে। কিন্তু ফিফটি তোলার পর তাওহীদ মনোযোগ ধরে রাখতে পারেননি। ৩৯ বলে ৫৩ রানে মেহরাবের বলে সীমানায় তানজিদের হাতে ধরা পড়েন। ক্রিজে গিয়ে কাইল মায়ার্স সুবিধা করতে পারেননি। ৮ বলে ১ ছক্কায় ৯ রান করে মেহরাবের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি।

২ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে রংপুর কিছুটা চাপে পড়েছিল। কিন্তু ১৯তম ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোকে দুটি করে চার মেরে খুশদিল ও মালান ১৩ রান আদায় করে নেন। শেষ ওভারে ম্যাচে রোমাঞ্চ ছড়ায়। ৬ বলে রংপুরের দরকার ছিল ৭ রান। রিপন মন্ডলের করা প্রথম বলে খুশদিল ডিপ পয়েন্টে ক্যাচ তোলেন।

পরের ৩ বলে ৬ রান তোলেন রংপুরের অধিনায়ক সোহান। কিন্তু পঞ্চম বলে দলকে ডুবিয়ে আসেন তিনি। ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেন। ১ বলে রংপুরের প্রয়োজন ১ রান। ৩৫০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকা মাহমুদউল্লাহও পারেননি দলকে জেতাতে। মিড অনে বল পাঠিয়ে ১ রানের জন্য দৌড় দিয়েছিলেন। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে থাকা মেহরাব ডাইভ দিয়ে বল তালুবন্দি করার পর উঠে নিজ হাতে ভাঙেন উইকেট। মাহমুদউল্লাহ তখনও ক্রিজের বাইরে। ফলাফল ম্যাচ টাই। অষ্টম ম্যাচেই বিপিএল পেল সুপার ওভার।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহীর শুরুর ও শেষের ব্যাটিং ছিল একেবারেই আলাদা। দলীয় ১২ রানে তানজিদ (২) ফেরার পর শাহিবজাদা ফারহান ও নাজমুল হোসেন শান্ত ৯৩ রানের জুটি গড়েন। তাদের দুজনের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল রাজশাহীর রান চূড়ায় যাবে। কিন্তু এই জুটি ভাঙার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে যায় রাজশাহীর ব্যাটিং অর্ডার।

নাহিদ রানার হাতে বল রেখে রানের জন্য দৌড়াতে গিয়ে নাজমুল রান আউট হন ৪১ রানে। ৩০ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় রাজশাহীর অধিনায়ক ইনিংসটি সাজান। রানে ফেরা শাহিবজাদা ৪৬ বলে ৬৫ রান করেন ৮ চার ও ২ ছক্কায়।

নাজমুল ১০৫ ও শাহিবজাদা ১১৮ রানে আউট হওয়ার রাজশাহী শেষ ৫.৪ ওভারে মাত্র ৪১ রান যোগ করে ৫ উইকেট হারিয়ে। মোহাম্মদ নওয়াজ কেবল ১০ রান করেছেন। বাকিরা কেউ দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি।

আগের ম্যাচে ৫ উইকেট পাওয়া ফাহিম এই ম্যাচেও ৩ উইকেট পেয়েছেন। তবে রান দিয়েছেন ৪৩। ২ উইকেট পেয়েছেন আলিস আল ইসলাম। ১ উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান।

রংপুরের দ্বিতীয় ম্যাচে এটি প্রথম হার। রাজশাহীর চতুর্থ ম্যাচে তৃতীয় জয়।