খেলাধুলা

ভারতে খেলবে না বাংলাদেশ: সরকারের সিদ্ধান্ত আইসিসিকে জানিয়েছে বিসিবি

মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট সম্পর্ক এখন টানাপোড়নে। মোস্তাফিজুরকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহলে।

জাতীয় চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে বিশ্বকাপে পুরো দল কীভাবে নিরাপদ থাকবে, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, ভারতে বিশ্বকাপ দল না পাঠানোর। বাংলাদেশের সরকার থেকে এমন সিদ্ধান্ত আসার পর আনুষ্ঠানিকতার কিছু বাকি থাকে না।

তবু রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালকরা ভার্চুয়ালি বোর্ড মিটিংয়ে বসেছিলেন। সেখানে স্রেফ সরকারের সিদ্ধান্ত বোর্ড পরিচালকদের জানানো হয়। বাড়তি আলোচনার কিছু ছিল না। কারো মত দেওয়ারও সুযোগ ছিল না। অবশ্য দু-একজন বোর্ড পরিচালক ভবিষ্যতের দিকগুলো আলোচনায় তুলেছেন। আইসিসি ভেন্যু সরাতে রাজি না হলে বাংলাদেশের করণীয় কী হবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সম্পর্ক কীভাবে বহাল থাকবে, সেসব নিয়েও কথা হয়েছে।

বিকেলের পর বিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিশ্চিত করে, বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভেন্যু ভারত থেকে সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছে চিঠিতে। তাতে নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি লিখেছে বোর্ড।

বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন নিজের ফেসবুকে লেখেন, ‘‘বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ- বিসিবির এই সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই।’’

যদিও রবিবার দুপুরের আগ পর্যন্ত বিসিবির সিদ্ধান্ত ও ভাবনা ছিল অন্যরকম। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে বোর্ড পরিচালকরা যে বৈঠক করেছিলেন, সেখানে ভেন্যু সরানোর নিয়ে আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত হয়েছিল আইসিসিকে ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে কিছু জানানো হবে না।

বিসিবি বাস্তবতা বুঝে ধীর চলো নীতিতে ছিল। কারণ বিশ্বকাপের বাকি আছে কেবল এক মাসের মতো। প্রথমে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা জানতে চাওয়া। প্রয়োজনে প্রতিনিধি পাঠিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ। কিন্তু সরকার পুরো বিষয়টিকে নিজেরা দেখভাল করায় বিসিবি তাদের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে সহজেই।

জানা গেছে, ক্রীড়া উপদেষ্টার জোরাল পদক্ষেপের কারণেই আইসিসিকে সরাসরি জানানো হয়েছে, ভারতে বিশ্বকাপ হলে খেলতে পারবে না বাংলাদেশ। শুধু তাই-ই নয়, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টাও বোর্ড প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে এই ইস্যুতে ফোন দিয়েছিলেন। তিনিও ভারতে বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর কথা বলেছেন।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিসিবির একাধিক পরিচালকদের মধ্যে নানা শঙ্কা উঁকি দিচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর তা বদল করার মতো পর্যাপ্ত কারণ নেই। বাংলাদেশ যদি সত্যিই বিশ্বকাপে যেতে না চায়, তাহলে অন্য দলকে আইসিসি বেছে নিতেও পারে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের যত আয়োজন সেখানে নানামুখী চাপ সামলাতে হবে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত ঠিক আছে কি না তা নিয়ে দ্বিধায় আছেন অনেকেই।