খেলাধুলা

বোর্ডের নিজস্ব কিছু সিদ্ধান্তও থাকতে হবে, বললেন তামিম

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে হলে যাবে না বাংলাদেশ। এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের অবস্থান অনড়। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম গণমাধ‌্যমে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করেছে আগেই।

নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিসিবির সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কতোটা যুক্তিযুক্ত, কতটা যৌক্তিক হলো তা নিয়ে এখন চলছে বেশ আলোচনা।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল এই ইস্যুতে নিজের কোনো মত দেননি। তবে কিছু বিষয় সামনে এনেছেন তিনি, ‘‘সিদ্ধান্তটা নিতাম ভবিষ্যৎ চিন্তা করে। হ্যাঁ, অনেক কিছুই ঘটছে। এই মুহূর্তে মন্তব্য করা জটিল। তবে, একটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে সবাই মিলে আলোচনা করে অনেক কিছু সমাধান করা যায়। ক্রিকেট বিশ্বে আপনার নিজের অবস্থান কোথায়, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে—সবকিছু মিলিয়েই আমি সিদ্ধান্ত নিতাম।’’

গত রোববার বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার উদ্বিগ্ন। এ কারণে বিশ্বকাপের ভেনু‌্য ভারত থেকে সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। ফিরতি চিঠিতে আইসিসি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব‌্যবস্থার চাহিদা জানতে চেয়েছে। এবার বিসিবি নিজেদের অবস্থান পুরোপুরি পরিস্কার করেছে।

পরবর্তী যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ‌্যৎ কোথায় যাবে তা চিন্তা করার দিকেও নজর দেওয়ার কথা বললেন তামিম, ‘‘দর্শক আবেগে অনেক কিছু বলেন। কিন্তু সবকিছু যদি আমরা ওইভাবে চিন্তা করি, তাহলে আপনি এত বড় সংস্থা চালাতে পারবেন না। কারণ, আপনার আজকের সিদ্ধান্ত আগামী ১০ বছর পর কী প্রভাব ফেলবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এবং খেলোয়াড়দের জন্য কোনটা ভালো হবে, সব চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’’

পাশাপাশি বিসিবিকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বললেন তামিম, ‘‘আমরা বিসিবিকে একটা স্বাধীন সংস্থা মনে করি। অবশ্যই সরকার এটার বড় অংশ। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু বিসিবিকে আমরা স্বাধীন সংস্থা মনে করলে বোর্ডের নিজস্ব কিছু সিদ্ধান্তও থাকতে হবে। তারা যদি মনে করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক, তাহলে ওই সিদ্ধান্তই নিতে হবে।’’

তৃতীয় দফায় চিঠি পাঠিয়ে বিসিবি আইসিসি থেকে রিপ্লাই পাওয়ার অপেক্ষায়। আগামী ১০ জানুয়ারির মধ‌্যেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।