হাসান মাহমুদের স্লোয়ার ব্যাটে লাগাতে পারেননি মোস্তাফিজুর রহমান। ২ বলে রংপুর রাইডার্সের তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ১০ রান। ওই ডট বলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষপর্যন্ত হাসি ফুটল নোয়াখালীর ডাগ আউটে। শেষ বল করার আগেই নোয়াখালীর উল্লাস, উচ্ছ্বাস বলে দিচ্ছিল একটি জয়ের জন্য কতটা অপেক্ষায় ছিল তারা। প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ, সহকারী কোচ তালহা জুবায়েরের মুখের হাসি এবং বাকিদের চোখে-মুখে আনন্দ ছিল দেখার মতো।
বিপিএলের ২০তম ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেল নোয়াখালী। টানা ছয় ম্যাচ হারের পর রংপুর রাইডার্সকে ৯ রানে হারিয়ে জয়ের ফুল ফুটল নোয়াখালীর। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪৮ রানে গুটিয়ে যায় নোয়াখালীর ইনিংস। রংপুর ৯ উইকেটে ১৩৯ রানের বেশি করতে পারেনি।
স্বল্পপুঁজি নিয়ে দারুণ লড়াই করা নোয়াখালীর জয়ের নায়ক পেসার হাসান মাহমুদ। ৪ ওভারে ২৬ রানে ৪ উইকেট নেন ডানহাতি এই পেসার।
টস হেরে ব্যাটিং করতে নামা নোয়াখালীর ব্যাটিং ছিল একেবারেই সাদামাটা। দলের হয়ে কেউই পারেননি বড় ইনিংস খেলতে। ভালো শুরু পর ত্রিশের ঘরে আটকে গেছেন তিন ক্রিকেটার।
জাকের আলী সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন। সেটাও ৩৭ বলে। ৩ চার ও ১ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। একাদশে ফেরা হাবিবুর রহমান সোহান ১৬ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩০ এবং সৌম্য ৪ বাউন্ডারিতে ২৭ বলে ৩১ রান করেন।
শেষ দিকে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ১টি করে চার ও ছক্কায় ২১ বলে ২৮ রানের ইনিংসে নোয়াখালী বলার মতো পুঁজি পায়। দুই বিদেশি মোহাম্মদ নবী (০) ও হায়দার আলী (১) হতাশ করেন এদিন।
শেষ ১২ বলে নোয়াখালী মাত্র ১০ রান যোগ করতে পারে। এ সময় ৫ উইকেট হারায় তারা। যার ৩টিই নেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। শেষ ওভারে বিপিএলের এবারের আসরের দ্বিতীয় এবং ব্যক্তিগত দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান বাঁহাতি পেসার। মোস্তাফিজুর রহমান ১৮ রানে ৩ উইকেট পেয়েছেন। ২ উইকেট নেন খুশদিল শাহ।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৩ রানে ২ ওপেনারকে হারায় রংপুর। লিটন ৩ বাউন্ডারিতে ১৫ রান করে হাসান মাহমুদের ভেতরে ঢোকানো বলে বোল্ড হন। ডেভিড মালান ৭ রানে মোহাম্মদ নবীর বলে উইকেট হারান।
তৃতীয় উইকেটে ইফতেখার আহমেদ ও তাওহীদ দলের হাল ধরেন। প্রথমবার সুযোগ পাওয়া ইফতেখার দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি শটে মাঠ মাতিয়ে রাখেন। অনায়েস ব্যাটিংয়ে রান তুলছিলেন তিনি। দ্রুত ৩১ বলে ৩৭ রান তুলে নেন ৬ বাউন্ডারিতে। কিন্তু স্পিনার জহির খান বোলিংয়ে এসে থামান তাকে। তার গুগলি উড়াতে চেয়ে লং অফে ক্যাচ দেন ইফতেখার।
পাঁচে নেমে মাহমুদউল্লাহ সুবিধা করতে পারেননি। ৮ বলে ৯ রান করে বিলাল সামির বলে বোল্ড হন। আরেক প্রান্তে তাওহীদ দলের হাল ধরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তার ব্যাটেই আশার আলো দেখছিল রংপুর। কিন্তু জহির তাকেও আটকে দেন ২৯ রানে, এলবিডব্লিউ ফাঁদে ফেলে।
২১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় রংপুর। শেষ ২৪ বলে তাদের প্রয়োজন ছিল ৪১ রান। তখন ক্রিজে আসেন সোহান। কিন্তু দলের দাবি মেটাতে পারেননি রংপুরের অধিনায়কও। মাত্র ৪ রানে উইকেট থেকে সরে পেসার রানাকে উড়াতে গিয়ে ফাইন লেগে ধরা পড়েন।
উইকেটে খুশদিল থাকায় কিছুটা আশা বেঁচে ছিল রংপুরের। ১৮তম ওভার তিনি শুরু করেন ছক্কা উড়িয়ে। হাসান মাহমুদের বল কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন। পরের পাঁচ বলে একটি বাউন্ডারিসহ আরো ৮ রান আদায় করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
শেষ ১২ বলে সমীকরণ তখন ২৩ রানের। কিন্তু বিলাল সামির করা ওভার থেকে ৮ রানের বেশি পাননি খুশদিল ও মৃতু্যঞ্জয়। সিলেটে তখন শেষ রোমাঞ্চের অপেক্ষা। ৬ বলে প্রয়োজন ১৫ রান। হাসানের করা শেষ ওভারের প্রথম বলে সব আশা শেষ হয়ে যায় রংপুরের। খুশদিল মিড উইকেট সীমানায় ক্যাচ দেন। এক বল পর মৃতু্যঞ্জয়ও সাজঘরে। শেষ বলে মোস্তাফিজুরকে বোল্ড করেন হাসান। তাতে নিজের চতুর্থ উইকেটের সঙ্গে দলের জয়ও নিশ্চিত করেন।
৭ ম্যাচে নোয়াখালীর এটি প্রথম জয়। ষষ্ঠ ম্যাচে রংপুরের দ্বিতীয় হার।