খেলাধুলা

শরিফুল-মাহেদীর বোলিং তাণ্ডবে ১২৬ রানে অলআউট নোয়াখালী

মাঠের বাইরের বিতর্ক আর আন্দোলনের কালো মেঘ কাটিয়ে বিপিএল যখন মিরপুরের ২২ গজে ফিরল, তখন দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক বোলিং মহাকাব্য। শরিফুল ইসলামের বিধ্বংসী ‘ফাইভ স্টার’ পারফরম্যান্স আর শেখ মাহেদী হাসানের স্পিন বিষে নীল হয়ে স্রেফ ১২৬ রানেই থমকে গেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের চাকা।

আজকের দিনের নায়ক নিঃসন্দেহে বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। চট্টগ্রামের এই তারকা বোলারের সামনে দাঁড়ানোর সাহস পাননি নোয়াখালীর কোনো ব্যাটার। মাত্র ৯ রান খরচ করে ৫ উইকেট শিকার করে একাই ধসিয়ে দেন প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন শেখ মাহেদী হাসান। যার ঝুলিতে গেছে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এই দুই বোলারের সাঁড়াশি আক্রমণে নির্ধারিত ওভার শেষ হওয়ার ৭ বল আগেই গুটিয়ে যায় নোয়াখালী।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নোয়াখালীর শুরুটা কিন্তু মোটেও ইঙ্গিত দিচ্ছিল না এমন বিপর্যয়ের। ওপেনার সৌম্য সরকার ৮ বলে ১৪ রানের একটি ছোট ক্যামিও খেলেন। আরেক ওপেনার হাসান ইসাখিল খেলেন ২৫ রানের লড়াকু ইনিংস। পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার সময় স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ৪৯ রান তুলে নোয়াখালী বেশ স্বস্তিতেই ছিল।

কিন্তু ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে ইসাখিলের বিদায়ের পরেই শুরু হয় চট্টগ্রামের রাজত্ব। মিডল অর্ডারে জাকের আলী অনিকের ২৩ রান এবং শেষ দিকে সাব্বির হোসেনের ১৯ বলে ২২ রানের ইনিংসটি কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। অধিনায়ক হায়দার আলি (১২) কিংবা সোহানরা (১১) এদিন চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।

বিপিএলের এই আসরে শরিফুল ইসলাম যে ফর্মে আছেন, তাতে তিনি আসরের সেরা বোলারের দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে গেলেন। মাত্র ১২৬ রানের পুঁজি নিয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনের বিপক্ষে নোয়াখালী কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।