টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নেপাল পুরুষ ক্রিকেট দলের বোলিং পরামর্শক কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান পেসার ইয়ান হার্ভি। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতিকে আরও শক্ত ভিত দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারকে দলে টেনেছে নেপাল ক্রিকেট।
হার্ভি কাজ করবেন নেপালের বর্তমান প্রধান কোচ, আরেক অস্ট্রেলিয়ান স্টুয়ার্ট ল’ এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে। ৫৩ বছর বয়সী হার্ভি এর আগে ইংলিশ কাউন্টি দল গ্লস্টারশায়ার-এর কোচিং করিয়েছেন। যে ক্লাবটির হয়ে একসময় বিদেশি পেশাদার হিসেবেও খেলেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইয়ান হার্ভির ক্যারিয়ার ছিল সমৃদ্ধ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনি খেলেছেন ৭৩টি ওয়ানডে। যেখানে শিকার করেছেন ৮৫ উইকেট। পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ৭১৫ রান। ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন হার্ভি।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ইয়ান হার্ভি পরিচিত ছিলেন তার বৈচিত্র্যময় বোলিংয়ের জন্য। নিখুঁত ইয়র্কার, নানা ধরনের স্লোয়ার বল এবং নিচের দিকে কার্যকর ব্যাটিং তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে তিনি খেলেছেন ৫৪টি ম্যাচ। যেখানে ৫২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ১,৪৭০ রান করেছেন। ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি কাপে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার কৃতিত্বও তার। এরপর ২০০৭ সালে প্রথম আসরের ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগ (আইসিএল)-এ টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জেতেন তিনি।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেপাল খেলবে গ্রুপ ‘সি’-তে। যেখানে তাদের সঙ্গী বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ইতালি ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কঠিন এই গ্রুপে নেপালের জন্য প্রতিটি ম্যাচই বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বকাপে নেপালের অভিযান শুরু হবে ৮ ফেব্রুয়ারি, মুম্বাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচই নেপাল খেলবে এই ভেন্যুতে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেপাল জয় না পেলেও দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে তারা লড়াই জমিয়ে দিয়েছিল। যা দলটির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিল।
ইয়ান হার্ভির অভিজ্ঞতা ও টি-টোয়েন্টি দক্ষতা নেপালের বোলিং আক্রমণকে নতুন মাত্রা দেবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। বিশ্বকাপের মঞ্চে চমক দেখাতে এই নিয়োগ যে নেপালের জন্য বড় সহায়ক হতে পারে, তা বলাই যায়।