খেলাধুলা

স্বর্ণার অলরাউন্ড নৈপুণ্যে কুপোকাত নিউ গিনি, জয়ের ধারায় টাইগ্রেসর

মাঠে যখন স্বর্ণা আক্তার ব্যাট হাতে নামেন, তখন বোলারদের হৃদকম্পন বেড়ে যাওয়াটাই যেন স্বাভাবিক। নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি গ্রাউন্ডে আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি, ২০২৬) সেই চেনা রূপেই দেখা দিলেন এই তরুণ তুর্কি। তার বিধ্বংসী ব্যাটিং আর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভর করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে পাপুয়া নিউ গিনিকে (পিএনজি) ৩০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল।

টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ঝোড়ো। ওপেনার দিলারা আক্তারের ৩৫ ও জুয়াইরা ফেরদৌসের ক্যামিওতে পাওয়ার প্লে-তেই বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে মাঝপথে শারমিন আক্তার সুপ্তার ধীরগতির ব্যাটিং ও অধিনায়ক জ্যোতির দ্রুত বিদায়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল দল।

সেই চাপকে তুড়িতে উড়িয়ে দেন স্বর্ণা আক্তার। মাত্র ১৪ বলের মোকাবিলায় আড়াই শ’র বেশি স্ট্রাইকরেটে খেলেন ৩৭ রানের এক টর্নেডো ইনিংস। ১টি চার আর ৪টি বিশাল ছক্কায় তিনি মাঠের চারদিকে ত্রাস সৃষ্টি করেন। অন্য প্রান্তে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সোবহানা মোস্তারি, যার ব্যাট থেকে আসে মূল্যবান ৩৪ রান। তাতে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৮ রান।

১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল পাপুয়া নিউ গিনি। তৃতীয় উইকেটে ব্রেন্ডা তাউ ও সিবোনা জিমির ৬৪ রানের জুটি কিছুটা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল টাইগ্রেস শিবিরে। তবে পার্ট-টাইম বোলার হিসেবে সোবহানা মোস্তারি ব্রেকথ্রু এনে দিলে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পিএনজির ব্যাটিং লাইনআপ।

বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩৮ রানেই আটকে যায় তারা। স্বর্ণা আক্তার কেবল ব্যাট হাতেই নয়, বল হাতেও শিকার করেন এক উইকেট। এছাড়া সানজিদা মেঘলা, রাবেয়া খান ও রিতু মনিরা একটি করে উইকেট নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

অলরাউন্ড নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন স্বর্ণা আক্তার।

এই জয়ে ২ ম্যাচ থেকে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করল বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড ও নামিবিয়ার মতো দলগুলোর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এই আত্মবিশ্বাসী জয় নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের জন্য বড় এক টনিক হিসেবে কাজ করবে। বৃহস্পতিবার নামিবিয়া ও শনিবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশের মেয়েরা।