খেলাধুলা

বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ আউট, স্কটল্যান্ড ইন

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বড় ধরনের পরিবর্তন এলো অংশগ্রহণকারী দলের তালিকায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্রিকবাজ, ক্রিকইনফোসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটভিত্তিক গণমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক টানাপড়েন থেকে। আইপিএল থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়ার পর বিষয়টি দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ককে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। এরই মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তুলে ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানায়, ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিয়ে তারা অনিশ্চিত।

এই অবস্থায় আইসিসির কাছে বিকল্প প্রস্তাব দেয় বিসিবি। বাংলাদেশের গ্রুপপর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা কিংবা গ্রুপ পুনর্বিন্যাসের অনুরোধ জানানো হয়। তবে আয়োজক দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আইসিসি সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে যখন আইসিসি ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বাংলাদেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে চায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোর্ড ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর বিসিবি জানিয়ে দেয়, তারা ভারতের ভেন্যুতে খেলতে রাজি নয়। সেই সিদ্ধান্তের পরপরই আইসিসি বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাতিল করে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে অন্তর্ভুক্ত করে।

বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত শুধু ক্রিকেটীয় নয়, আর্থিক দিক থেকেও বড় ধাক্কা হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ায় বিসিবির সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৩৩০ কোটি টাকা। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসর চুক্তি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক আয়ের বড় অংশ হারানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে বিসিবির বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাব পড়তে পারে।

তবে এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ফলে বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো এবং তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

একদিকে স্কটল্যান্ডের জন্য এটি বিশ্বমঞ্চে ফেরার বড় সুযোগ, অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য এটি হয়ে থাকল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতিতে এক কঠিন অধ্যায়। যার রেশ হয়তো অনেক দিন ধরেই অনুভূত হতে পারে।